রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২0২0, Current Time : 3:46 am
  • হোম » এ সপ্তাহের খবর »
    নিউইয়র্কে দুই সপ্তাহ ধরে ব্যবসায় মন্দা ॥ অনেকেই এখন দেশের পানে ছুঁটছেন
    ক্যাবিদের সময় ভালো যাচ্ছে না




নিউইয়র্কে দুই সপ্তাহ ধরে ব্যবসায় মন্দা ॥ অনেকেই এখন দেশের পানে ছুঁটছেন
ক্যাবিদের সময় ভালো যাচ্ছে না

সাপ্তাহিক আজকাল : 07/12/2019

বিশেষ প্রতিনিধি
হঠাৎ করে ব্যবসা কমে এসেছে নিউইয়র্কের ক্যাবিদের। গত দুই সপ্তাহ ধরে রাত দিন কাজ করেও জমার টাকা উঠাতে পারছেন না অনেকে। প্রায় সব ক্যাবি শীত ও বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে রাস্তায় নামছেন কিন্তু কাঙ্খিত রোজগার নিয়ে ঘরে ফিরতে পারছেন না। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে চলে যাচ্ছেন বাংলাদেশে বেড়াতে। ক্যাব মালিকরা পত্রিকায় বিজ্ঞাপণ দিয়েও ড্রাইভার পাচ্ছেন না। ক্যাবিদের দুর্দিন দেখে যারা নতুন লাইসেন্স নিয়েছেন তারাও এ পেশায় নিজেদের সম্পৃক্ত করাকে ঝুকিপূর্ণ মনে করছেন। সার্বিক বাস্তবতায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিউইয়র্কের ক্যাবিদের এখন দুর্দিন চলছে। তবে অনেকেই বলছেন, গত দুই দিন আগের ছেয়ে একটু ভালো ব্যবসা হচ্ছে।
এস্টোরিয়ার বাংলাদেশি আবদুল হক চার বছর ধরে হলুদ ক্যাব চালান। তিনি সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, ২০ নভেম্বরের পর থেকে ব্যবসা নেই। প্রতিবছর জানুয়ারি মাস ক্যাবিদের জন্য মন্দা শুনেছি। কিন্তু এবারের মত এত আগে এ অবস্থা গত চার বছরে দেখিনি। আমি বুধবার সকাল ৭ টায় হলুদ ক্যাব নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম। বিকেল সাড়ে ৪ টায় পর্যন্ত কাজ করে খরচ দিয়ে নিজের জন্য মাত্র ১১০ ডলার থাকল। যা অবিশ্বাস্য। যা আমার গত তিন বছরের ক্যাবি চালানোর সময়ে কোন দিন হয়েছে কি না মনে নেই।
জ্যামাইকার হিলসাইডের ক্যাবি মাহমুদুল হক সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, ব্যবসা কেন এত হ্রাস পেয়েছে বুঝতে পারছি না। গত বছরও এই সময়ে ব্যবসা ছিল কম। কিন্তু এ বছর মনে হচ্ছে তার চেয়েও কম। ব্যবসার এ অবস্থা দেখে আমার দুই রুমমেট গত সপ্তাহে দেশে চলে গেছেন। তাদের একজন হলুদ ক্যাব এবং আরেক জন গ্রীণ ক্যাব নিয়ে বেইসের অধীনে কাজ করতেন। আমিও ভাবছি আগামী সপ্তাহে দেশে চলে যাব।
হলুদ এবং গ্রীণ ক্যাবিদের যখন এ অবস্থা তখন উবার বা লিফট চালকরাও বলছেন একই কথা। জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্টিটের একটি রেস্টুরেন্টের সামনে এক দল উবার চালক আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে এলমাহস্টের ফকির মোহাম্মদ সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, উবারের ব্যবসাও ভাল না। পর্যটক নেই। বিমান বন্দরের যাত্রী কম। গত সপ্তাহে অন্তত ৬০ ঘন্টা কাজ করে আগের সপ্তাহের চেয়ে অর্ধেক কম আয় করেছি। আমরা মনে করি আগামী কয়েক মাস এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে।
জ্যাকসন হাইটসের গ্রীণ ক্যাবি মনজুর হোসেন সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, ব্যবসা কমলেও আমাদের খরচ কমেনি। তিনি বলেন, আমি এক মাস আগে সাড়ে ৩ হাজার ডলার দিয়ে একটি গাড়ী কিনেছি। রঙ ও টিএলসি করাসহ সবমিলে প্রায় ৭ হাজার ডলার ইনভেস্ট করলাম। প্রতি মাসে প্রায় ৪’শ ডলারের ইন্স্যুরেন্স খরচ। এত ডলার পুঁজি দিয়ে যদি সারাদিন কাজ করে এক’শ ডলার নিয়ে বাড়ি ফিরি তাহলে কি সংসার চলবে?
জ্যামাইকার ক্যাব মালিক বদিউল আলম সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, আমার গাড়ীর কিস্তিও ইন্স্যুরেন্সসহ মাসে এক হাজার ডলারের মত খরচ। গত দুই সপ্তাহ ধরে ড্রাইভার খুঁজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। নিজেই এক শিফট গাড়ী চালিয়ে কোন প্রকার খরচ জোগাড় করছি। কিন্তু লাভের মুখ দেখছিনা গত দুই সপ্তাহে। কারণ আমি রাতের শিফটের কোন ড্রাইভার খোঁজে পাচ্ছি না। সব ড্রাইভার এখন দেশে চলে যাচ্ছেন ছুটি কাটাতে।
নতুন টিএলসি ড্রাইভার্স লাইসেন্স পেয়েছে জ্যামাইকার মামুনুর ইসলাম। তিনি সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, আমি গত এক বছর চেষ্টা করে তিন বার পরীক্ষা দিয়ে গত মাসে লাইসেন্স পেয়েছি। আমি এখন একটি দোকানে কাজ করি। দোকানেও ব্যবসা নেই। ভাবছিলাম এ মাসেই হলুদ ক্যাবে নেমে পড়ব। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম গত দুই/এক সপ্তাহ ধরে ক্যাবিদের ব্যবসা মন্দা। তারা দুর্দিন পার করছেন।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.