বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২0১৯, Current Time : 4:14 am
  • হোম » আন্তর্জাতিক »
    অর্থ চুরির পর আশঙ্কা তথ্য চুরিরও
    নিউইয়র্কে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছেন উবার ড্রাইভার




অর্থ চুরির পর আশঙ্কা তথ্য চুরিরও
নিউইয়র্কে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছেন উবার ড্রাইভার

সাপ্তাহিক আজকাল : 16/11/2019

বিশেষ প্রতিনিধি
নিউইয়র্কে ‘সোনার হরিণ ’খ্যাত উবারের হাজার হাজার ড্রাইভারের মধ্যে দুশ্চিন্তা ভর করেছে। উবার কর্তৃপক্ষ সিটির ৯৬ হাজার ড্রাইভারের অর্জিত অর্থের বিরাট অংক চুরি করায় এ দুশ্চিন্তা বলে জানা গেছে। তবে আদালতে এ নিয়ে মামলা হওয়ায় এখন সেদিকে চেয়ে আছে ক্ষতিগ্রস্থ ২০ হাজার বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট উবার ড্রাইভাররা। এছাড়া অনেকেই আশঙ্কা করছেন অ্যাপস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ড্রাইভারদের ব্যক্তিগত তথ্যগুলোও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করছেন না। ফলে সার্বিক বিষয়ে এ শিল্পে ধ্বস নামার ব্যাপারটিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থরাও জ্বলছেন ক্ষোভের আগুনে।
নিউইয়র্কে ‘সোনার হরিণ’ নামে পরিচিত ইয়োলে ট্যাক্সি। তাই যারা সরকারি বা সিটির চাকুরি পেতেন না তারা এ পেশাকে বেছে নিতেন। এই হলুদ ট্যাক্সি নিউইয়র্কের বাংলাদেশিসহ হাজার হাজার অভিবাসীকে স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে। বহু প্রবাসী বাড়ি-গাড়ি ও ব্যবসার বাণিজ্যের মালিক হয়েছেন। কিন্তু গত কয়েক বছর আগে অ্যাপস ভিত্তিক রাইড কোম্পানি উবার আসার পর হাজার হাজার প্রবাসী উবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। নিজের ইচ্ছেমত কাজের সিডিউল নির্ধারণ এবং নিজের গাড়ি ব্যবহার করে অর্থ রোজগারের সুযোগ মেলায় উবারের সঙ্গে সর্ম্পৃক্ত হন বহু মানুষ। দিনে দিনে উবারের চালকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে কর্তৃপক্ষ নানা ফন্দি-ফিকিরে লিপ্ত হন। ভাড়া কম দেয়া ও নিজেদের ইচ্ছেমত ভাড়া নির্ধারণসহ বহু অভিযোগ উঠে উবার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সূত্র জানিয়েছে, সিটিতে ২০ হাজারের অধিক বাংলাদেশিসহ ৯৬ হাজার ড্রাইভারের অর্জিত অর্থের বড় একটি অংশ চুরির অভিযোগে উবারের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের ফেডারেল কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। গত ৬ নভেম্বর ম্যানহাটানেন ফেডারেল কোর্টে এই মামলা দায়ের করেছে ‘নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স এলায়েন্স’।
মামলায় অভিযোগ উল্লেখ করা হয়, উবার ড্রাইভারের অর্জিত মোট অর্থ থেকে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে ট্যাক্স কর্তনের পাশাপাশি ব্ল্যাক কার ফান্ড সারচার্জ এবং তাদের সার্ভিস ফি কেটে নিয়েছে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। এর ফলে দিনভর ট্যাক্সি চালিয়ে যাত্রীভাড়া বাবদ ১০০ ডলার আয় হলে, তার বড় একটি অংশ উবারের একাউন্টে চলে যায়। সেই ড্রাইভারের ভাগ্যে জোটে বড়জোর ৪০ ডলার। শুধু তাই নয়, ড্রাইভারের সাথে উবারের প্রতারণার বড় একটি অভিযোগ রয়েছে যে, বৃষ্টি অথবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কিংবা বিশেষ কোন দিনে বা কোন কারণে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে গেলেই উবারের সিস্টেমে ভাড়া বাড়ানো হয়, যার ন্যায্য হিস্যা পান না ড্রাইভাররা। ড্রাইভারের সাথে স্বাভাবিক যে চুক্তি রয়েছে সে অনুযায়ী প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, কঠোর পরিশ্রমী ড্রাইভারের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে টাক্স এবং সারচার্জ কেটে নেয়ার ঘটনায় ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে উবার কমপক্ষে ৮৬ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে। যা মামলা দায়েরকারি ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স এলায়েন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এই সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ভৈরবী দেশাই বলেন, ট্যাক্সি ড্রাইভাররা দিনশেষে খালি পকেটে বাসায় ফিরলেও উবারের মালিক বিলিয়ন ডলার বা অর্থের পাহাড় গড়ছেন বছর শেষে। আর এভাবেই অভিবাসী সমাজের সদস্য ট্যাক্সি ড্রাইভারের সাথে প্রতারণাকে বছরের পর বছর জায়েজ করে নিচ্ছে উবার।
প্রসঙ্গত: উবার প্রতারণার ঘটনাগুলোকে পরিসংখ্যাণগত ভুল হিসেবে মেনে নিয়ে ২০১৭ সালে বেশ ক’জন ড্রাইভারের অর্থ ফেরৎ দিয়েছে। তারা নাকি ভুলে অধিক অর্থ কেটে রেখেছিল। তবে মোট কতজনের কাছে থেকে কত মিলিয়ন ডলার কথিত সেই ভুলে কেটে রাখা হয়েছিল, তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেনি কিংবা মোট কতজনকে সেই ডলার ফিরিয়ে দিয়েছে তাও জানা যায়নি। যদিও ভুলর সেই ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত রয়েছে বলেই ম্যানহাটানের ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উবারে এ ধরনের আচরণে ক্ষুব্ধ চালক মফিজুর রহমান সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, তারা দিন দুপুরে ডাকাতি করছে। আমাদের কষ্টার্জিত অর্থগুলো তারা লুটেপুটে খাচ্ছে। অনেকেই আছে সারা দিন যা রোজগার করেছেন তার থেকে কত অর্থ কিভাবে কেটে নেয়া হচ্ছে তাও জানেন না। দিন শেষে তারা এক/দুইশ ডলার পেলেই খুশি হয়ে যাচ্ছেন।
অপর উবার চালক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, উবারের বিরুদ্ধে মামলাটি আরো আগে করা দরকার ছিল। কারণ আমরা তাদের প্রতারণার শিকার। এখন কথায় কথায় তারা অ্যাপস বন্ধ করে দিচ্ছে। উবারকে মনে রাখতে হবে আমাদের কষ্টার্জিত অর্থেই তারা বিলিয়নিয়ার হচ্ছে।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.