সোমবার , ১৮ নভেম্বর ২0১৯, Current Time : 2:57 am
  • হোম » আন্তর্জাতিক »
    পাবলিক চার্জ ইস্যুতে এগিয়ে এলো আদালত
    স্বস্থিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্প আয়ের মানুষ




পাবলিক চার্জ ইস্যুতে এগিয়ে এলো আদালত
স্বস্থিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্প আয়ের মানুষ

সাপ্তাহিক আজকাল : 19/10/2019

বিশেষ প্রতিনিধি
কথা ছিল গত ১৫ অক্টোবর থেকে স্বল আয়ের মানুষের আমেরিকায় গ্রীণ কার্ড পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার। কারণ ওই দিনটি ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন পাবলিক চার্জ কার্যকর হওয়ার দিন। কিন্তু সেটি হয়নি। অভিবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছে আদালত। ‘পাবলিক চার্জ’ বলে পরিচিত সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করলে গ্রীণ কার্ড পাওয়া যাবে না বলে প্রশাসনিক নির্দেশনাটি স্থগিত করেছেন আদালত। এরই মধ্য দিয়ে আমেরিকায় বৈধ অভিবাসন সীমিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি পদক্ষেপ আদালতে হোঁচট খেয়েছে। আদালতের এ আদেশে আপাতত স্বস্থি দেখা দিয়েছে স্বল্প আয়ের অভিবাসীদের মধ্যে। এ প্রসঙ্গে এটর্নি মিজানুর রহমান সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম এ ধরনের আদেশগুলো আদালতে আটকে যাবে। আদালত অভিবাসী বা বেশি মানুষের স্বার্থটাকে এই দেশে বিবেচনা করে সেটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আদালত যেহেতু অভিবাসীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আপাতত আর কোন শঙ্কার কারণ নেই।
পাবলিক চার্জ ইস্যুতে আদালতের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে জ্যামাইকার স্কুল শিক্ষকা মোনতাহিনা সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, আমি খবরের কাগজে এটি পড়েছি। শুনে খুব ভালো লাগছে। আমি ভালো রোজগার করলেও আমার অনেক স্বজন রয়েছে তারা স্বল্প আয়ের। তাদের উপর খড়ক নামলে আমরাও উদ্বিগ্ন থাকবো।
জ্যাকসন হাইটসে ব্যবসায়ী আহমেদ আল ইসহাক বলেন, আমি বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কারণ দুই বছর ধরে আমি ফুড স্ট্যাম্প নিচ্ছিলাম। আদালতের এ আদেশ যদি আর কয়েক মাস স্থগিত থাকে তাহলে আমি নাগরিকত্বের পরীক্ষা দিয়ে দিব।
উডসাইডের ক্যাবি নাজিম উদ্দিন সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, ট্রাম্পের এ ধরনের ঘোষণার পর আমি অনেকের কাছে পরামর্শের জন্য গিয়েছি। কিন্তু কেউ সুপরামর্শ দেয়নি। এখন শুনলাম ট্রাম্পের আদেশ আদালত স্থগিত করে দিয়েছে। এটি শুনে খুশি লাগছে। কারণ ফুড স্ট্যাম্পসহ নানা সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে আমরাই বেশি বিপদে পড়তাম।
ওজন পার্কের বাংলাদেশি জাইরোর দোকানের কর্মচারি বিল্লাল মোহাম্মদ সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, আমি এখন শুনলাম ট্রাম্পের আদেশ আদালত স্থগিত করে দিয়েছে। শুনে শান্তি পেলাম। গত সপ্তাহে স্বজনদের জন্য আবেদন করেছি। বিষয়টি নিয়ে খবুই দুশ্চিন্তায় ছিলাম।
ফুড স্ট্যাম্প, স্বাস্থ্য ও আবাসন সুবিধা নেওয়া যাবে না- ট্রাম্প প্রশাসনের এমন নির্দেশনায় অভিবাসী প্রত্যাশীরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। নির্দেশনাটি ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। ১১ অক্টোবর তিনজন ফেডারেল বিচারক প্রশাসনিক নির্দেশনাটি স্থগিত করে রায় দিয়েছেন। এই রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের পরাজয় বলে মনে করা হচ্ছে। অভিবাসী নাগরিক আন্দোলনের সংগঠকরা বলছেন, আদালতের এ রায়কে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনাটি কার্যকর করার জন্য নতুন উপায় খোঁজার কথা জানানো হয়েছে।
পারিবারিক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ ছিল এটি। পারিবারিক বন্ধন নয়, আমেরিকায় ইমিগ্রেশনের জন্য অর্থনৈতিক সামর্থ্যকেই এ নির্দেশনায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। অভিবাসনের দেশ আমেরিকায় এমন নির্দেশনায় নাগরিক আন্দোলনের সংগঠনগুলো প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠে। এ নিয়ে উদারনৈতিক রাজ্যগুলোতে একের পর এক মামলা করা হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নানা পদক্ষেপের বিপক্ষে ডেমোক্র্যাট দলের কোনো ঐক্যবদ্ধ জোরালো অবস্থান না থাকলেও বিচার বিভাগ বারবার এগিয়ে এসেছে। নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার মাত্র চার দিন আগে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটন ডিসির দেওয়া এই রায় অভিবাসীদের মধ্যে স্বস্থি নিয়ে এসেছে।
নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জর্জ ড্যানিয়েলস রায়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা অভিবাসন আইনকে একটি নতুন কাঠামো দিয়ে সংজ্ঞা দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। এই নির্দেশনাটি কার্যকর হওয়ার অনুমতি দিলে ‘আইন মেনে চলা লোকজন যারা আমেরিকায় উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় এসেছে, তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ বিধিটি কার্যকর হলে লোকজনের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হবে। আইনগত প্রাপ্য সুবিধা গ্রহণে তারা ভয় পাবে। সমাজে অবদান রাখার জন্য নাগরিকদের এসব সুবিধা আইনগতভাবেই গ্রহণ করার পথ অবারিত করা আছে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশনাটি ভীতি দেখিয়ে এসব সুবিধা গ্রহণ থেকে অভিবাসীদের নিরুৎসাহিত করবে বলে বিচারক তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন।
স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর মার্কিন ইমিগ্রেশন সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কেন কুকিনেল্লি বলেন, আমেরিকায় বসতি স্থাপনকারী অভিবাসীদের আর্থিকভাবে সাপোর্ট করার বিষয়টি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন এই প্রয়াসটি নিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি আইনগত উদ্যোগ ও নীতিমালা তৈরি করবে।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.