সোমবার , ১৮ নভেম্বর ২0১৯, Current Time : 2:37 am




সিরিয়ায় রাশিয়াই চালকের আসনে!

সাপ্তাহিক আজকাল : 19/10/2019

আজকাল ডেস্ক
সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া আবার চালকের আসন গ্রহণ করেছে। ওবামা সরকারের শেষ সময়ে তারা তাদের মিত্র বাশার আল আসাদের সরকারের পতন ঠেকানোটা নিশ্চিত করে সেখানে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। এরপর সিরিয়া যুদ্ধ কিছুটা দমে এলে রাশিয়ার সেখানে আর খুব জোরালো কোনো ভূমিকা রাখার জায়গা ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে ট্রাম্প মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলে সেখানে আবার রাশিয়া সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তুরস্কের অভিযানের আগেই তারা সতর্কবাণী দেয় যে, এতে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।
তুরস্ক অভিযান শুরু করার পর রাশিয়া বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মস্কো স্পষ্টভাবে বলেছে, তুরস্কের এ অভিযান গ্রহণযোগ্য নয়। তুরস্ককে অবশ্যই আদানা চুক্তি মেনে চলতে হবে। ১৯৯৮ সালের অক্টোবর মাসে তুরস্ক এবং সিরিয়ার মধ্যে আদানা চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী তুরস্কের সেনাদের সিরিয়ায় স্থায়ীভাবে থাকার কোনো অধিকার নেই। মস্কো এও জানিয়েছে যে, সর্বশেষ সমঝোতা অনুযায়ী, সিরিয়ার ১০ কিলোমিটারের বেশি ভেতরে তুরস্কের প্রবেশ করাটা অবৈধ হবে।
আক্রান্ত কুর্দিদের সঙ্গে সিরিয়ার আসাদ সরকারের একটি চুক্তি ও দীর্ঘস্থায়ী সমঝোতার ব্যাপারে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে রাশিয়া। উভয় পক্ষ যাতে চুক্তি মেনে চলে, সে বিষয়ে মস্কো গ্যারান্টার হয়েছে। এই চুক্তির ফলে এতদিনকার মার্কিন মিত্র সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সের ওপর মস্কোর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া সিরিয়ার সরকার এতদিন যে অঞ্চলগুলোকে ঢুকতে পারছিল না, সেগুলোতে তাদের দখলে এসেছে।
এছাড়া মস্কো সরাসরি তুর্কী বাহিনীর অগ্রসরতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুর্দি এলাকায় অবস্থান নেয়া সিরীয় সেনা এবং আক্রমণকারী তুর্কি সেনাদের মধ্যবর্তী এলাকায় ঝুঁকি নিয়েই চলাফেরা করছে রুশ সৈন্যরা। দুই বাহিনীকে সরাসরি সংঘাত থেকে দূরে রাখতেই তাদের এই সামরিক কূটনীতি। যেকোনো সময় যেকোনো পক্ষ থেকে হামলা হতে পারে। ভুল করেও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে, তখন বড় বিপদে পড়তে পারে রুশ সেনারা।
চতুর্থত, তুর্কী প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে মস্কো। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সিরিয়া বিষয়ে আলোচনার জন্য এরদোগানকে রাশিয়ায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এরদোগান তাতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে তুর্কী সংবাদমাধ্যমগুলো। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই এরদোগান রাশিয়া সফর করবেন। সেখানে রাশিয়া চেষ্টা করবে তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি সমঝোতা গড়ে তোলার।
এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাশিয়া এখন সিরিয়া যুদ্ধের মূল খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে সরে গেছে। আর ইউরোপের অবস্থান হলো দূর থেকে পর্যবেক্ষণকারী টিভি দর্শকের মতো। রাশিয়াকে এভাবে মঞ্চ ছেড়ে দেয়ায় পশ্চিমা জগতে যুক্তরাষ্ট্রকে নানা ধরনের সমালোচনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে অ্যামেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাব কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও ইরান আসাদ সরকারের মাধ্যমে সিরিয়ার ওপর আরও প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে।
পশ্চিমারা অবশ্য আশঙ্কা করছে, তুরস্ক তার মিত্র দেশ রাশিয়া ও ইরানের মদদপুষ্ট আসাদ প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আমেরিকা ও ইউরোপের সতর্কতাবাণী সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান সীমান্তের দুই প্রান্তে কুর্দিদের দমন করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু সেই কাজ করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় তুরস্ক কার্যত একঘরে হয়ে পড়লে তার মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী রাশিয়াও বিপাকে পড়বে।
সমালোচকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে কুর্দিদের রাশিয়ার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। এখন পশ্চিমা দুনিয়া তুরস্কের সঙ্গে লাগতে গেলে রাশিয়া সেখান থেকেও ফায়দা তুলবে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ভালো সময়ই যাচ্ছে, বলতে হবে।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.