সোমবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২0১৯, Current Time : 3:31 am




মহাকাশ বাহিনী গঠন করছে যুক্তরাষ্ট্র

সাপ্তাহিক আজকাল : 07/09/2019

আজকাল ডেস্ক
মহাকাশে রণডঙ্কা বাজালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে মহাকাশেও সামরিক শক্তির সম্প্রসারণ ঘটাতে চাইছে তার সরকার। এ লক্ষ্যে ‘ইউনাইটেড স্টেইট স্পেস কমান্ড’ নামে মহাকাশ বাহিনী গঠনে পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার মতে, বিভিন্ন দেশের হুমকির কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে রণসজ্জা নিতে হবে।
২৯ আগস্ট রোজ গার্ডেনে ১০ মিনিটের এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বাহিনী গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। এ সময় ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় মহাকাশকেন্দ্রিক পদক্ষেপের আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। এই কমান্ড হবে মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ। এটি মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যুদ্ধের সময় এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসকে রক্ষা করবে। মহাকাশে আমেরিকার প্রাধান্য খর্ব করার হুমকি মোকাবেলা করবে স্পেসকম।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আরো বলেন, অব্যাহতভাবে যুক্তরাষ্ট্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিক্ষিপ্ত যে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত ও ধ্বংসে মহাকাশ কার্যক্রমে আমাদের স্বাধীনতা রয়েছে। আমেরিকার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে মহাকাশকেন্দ্রিক, আজকের এই বিশেষ দিনটি সেটাকেই স্বীকৃতি দিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর প্রাক্তন পারমাণবিক ও মহাকাশ অপারেশন কর্মকর্তা ব্রায়ান উইডেন বলেছেন, ভবিষ্যতে দ্বন্দ্বের অংশ হয়ে উঠবে মহাকাশ। মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি এক্ষেত্রে ভূমিকা গ্রহণ করবে এবং মহাকাশ ক্ষমতা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
যোগাযোগ ও নজরদারির জন্য ব্যবহৃত শতাধিক মার্কিন স্যাটেলাইটের কার্যক্রম দেখভাল করাসহ মহাকাশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদারকি করাই হবে নতুন এই বাহিনীর মূল কাজ। এছাড়া মহাকাশে সামরিক প্রস্তুতিতে স্পেসকম বিশেষ সামরিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনী ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য ব্যাপকভাবে স্যাটেলাইট ও মহাকাশের গভীর উচ্চতায় কার্যকর যুদ্ধবিমান তৈরির কার্যক্রম জোরদার করবে এই নতুন কমান্ড।
স্পেসকমের নেতৃত্ব দেবেন এয়ার ফোর্স বিমান বাহিনী জেনারেল জন রেমন্ড। এক ব্রিফিংয়ে রেমন্ড সাংবাদিকদের বলেছেন, মহাকাশ একটি যুদ্ধ-লড়াইয়ের ক্ষেত্র। আমি মনে করি, আমাদের জীবনযাপন ও রণপন্থা নির্ভর করছে মহাকাশে আমাদের কতটা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তার ওপর। তাই মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করা, উপগ্রহসহ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে যোগাযোগের সমস্ত কিছু এই বাহিনীর লক্ষ্য থাকবে।
চীন ও রাশিয়া মহাকাশে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। চীন দাবি করছে, তাদের কাছে স্যাটেলাইট বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। অন্যদিকে মহাকাশভিত্তিক লেজার অস্ত্র তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধানদের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পর এ পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র।
মহাকাশে যুদ্ধ নিয়ে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র সিরিজ ‘স্টার ওয়ার্স’। এই চলচ্চিত্রের মূল উপজীব্য বিভিন্ন ধরনের বিশেষ অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভালো ও মন্দের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে মহাকাশে লড়াই। মহাকাশে বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা এবং ‘স্টার ওয়ার্স’-এর মতো করেই সশস্ত্র ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে ট্রাম্পের নতুন বাহিনী স্পেসকমের কাজ। আর তাই মহাকাশে যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি শাখার অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও স্পেসকম গঠন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.