বুধবার , ১৬ অক্টোবর ২0১৯, Current Time : 7:25 am




শাহজালালের আমদানি নিষিদ্ধ মাছ এখনও বাজারে!

সাপ্তাহিক আজকাল : 10/08/2019

বিশেষ প্রতিনিধি
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এখনও বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের ‘আমদানি নিষিদ্ধ’ শাহজালাল ব্র্যান্ডের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এত সল্প সময়ের মধ্যে ৭৬ হাজার ২৫ পাউন্ড মাছ বাজার থেকে সংশ্লিষ্টরা তুলে নিতে না পারার বাস্তবতায় মাছগুলো বাজারে থেকে গেছে। তবে ইউএসডিএ এখনও প্রাণপন চেষ্টা চালাচ্ছে এসব মাছ দ্রুত বাজার থেকে উঠিয়ে নেয়ার জন্য।
দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতিতে শাহজালাল ব্র্যান্ডসহ বাংলাদেশ থেকে আনা প্রায় সব মাছেরই বিক্রি কমেছে গ্রোসারি ও সুপার মার্কেটে। সাপ্তাহিক আজকালসহ মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত সংবাদে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এক ধরনের সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অনেকেই বাংলাদেশি মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করছেন।
গত কয়েক দিনে সাপ্তাহিক আজকালের কাছে ফোনে বহু বাংলাদেশি আমাদানি নিষদ্ধ মাছগুলো খাচ্ছেন না এবং অন্যরাও যাতে এসব মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকেন সে লক্ষে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচারের অনুরোধ করেছেন। এদিকে বাংলাদেশি মাছ না কিনে অনেক প্রবাসী এখন ফ্লাশিংসহ বিভিন্ন এলাকার চাইনজি লাইভ ফিশ’র দোকানে ভীড় করছেন। তাদের ভাষায়, ‘মাছ খেলে এখন থেকে ফ্রোজেন ( হিমায়িত ) নয়, খাবো লাইভ মাছ’।
মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে আমদানি নিষিদ্ধ মাছগুলো বাজারে ছেড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা প্রিমিয়াম ফুডস ইউএসএ ইনক বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে ব্যাখা দিয়েছে। তারা দাবী করেছে, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারাল’স ফুড সেফটি এন্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফআইএসএস) কর্র্তৃক প্রিমিয়াম ফুড ইউএসএ’র ৭৬ হাজার ২৫ পাউন্ড মাছ জব্দ করার কারণ হচ্ছে বিধি মোতাবেক তা আমদানি না করা। কোন ধরনের ক্যামিক্যাল বা নিরাপত্তার কারণে এ মাছ ‘রিকল’ করা হয়নি।
জ্যামাইকায় বাংলাদেশি এক অভিবাসী মূলধারার একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। আদ্যক্ষরের ‘আ. জা.’ মঙ্গলবার সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, আমদানি নিষিদ্ধ মাছ সংক্রান্ত আজকালে প্রকাশিত সংবাদটি কমিউনিটিতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মানুষের মধ্যে সচেতনা সৃষ্টি হচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এখন থেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের আমদানি করার মাছগুলো না খাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অনেক স্টেট থেকে স্বজনরা আমার কাছে পরামর্শ চাইলে আমিও এসব মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। তিনি বলেন, আমি এমনিতে আগে বাংলাদেশি ফ্রোজেন মাছগুলো কম খেতাম। এখন থেকে ভাবছি ইলিশ খাওয়াও ছেড়ে দেব।
রোববার দুপুরে ফ্লাশিং মেইন স্ট্রীটে দেখা হয় বাংলাদেশি জ্যাকসন হাইটসের আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাহাজালালের আমদানি নিষিদ্ধ মাছের খবর পেয়েছি। আতঙ্কে বাংলাদেশি গ্রোসারি ও সুপার মার্কেট থেকে মাছ না কিনে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে এখানাকার চাইনিজ দোকানগুলোতে লাইভ ফিশ কিনতে এসেছি। শুধু আমি নয়, আমার মত অনেকেই এখানে এসেছেন লাইভ ফিশ কিনতে।
ব্রুকলিনের ফ্লাশবুশ থেকে প্রতি সপ্তাহে জ্যাকসন হাইটসের গ্রোসারিতে বাজার করতে আসেন বাংলাদেশি এক নির্মাণ ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার রাতে তিনি জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রীটের একটি গ্রোসারিতে গিয়ে বাংলাদেশি ফ্রোজেন মাছগুলো উল্টে পাল্টে দেখে চলে যান। এ সময় তিনি সবজি আর নানা ফ্রুটস নিলেও ফ্রোজেন মাছ না কিনে ফিরেন। তিনি সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, আতঙ্ক ভর করেছে, বোয়াল, আইড,পাবদাসহ গোফওয়ালা অনেক মাছ খেয়েছি। এতদিন পর শুনি এগুলো ‘আমদানি নিষিদ্ধ’ ছিল। ভয় তাড়া করছে। তাই ইচ্ছা থাকা সত্বেও মাছ না কিনেই বাড়ি ফিরছি।
ওই গ্রোসারির কর্মচারির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইউএসডিএ’র লোকজন কয়েকবার এসেছিল। গোফওয়ালা সব মাছ তুলে নিয়ে গেছে। এ খবর জানাজানির পর ফ্রোজেন মাছের ফ্রিজে কাস্টমাররা হাতই দিচ্ছে না। গত কয়েকদিনে বিক্রি কমে গেছে আশঙ্কাজনকহারে। এ নিয়ে আমার মালিকও দুশ্চিন্তায়। তবে এখনও অনেক গ্রোসারি এবং সুপার মার্কেটে আমদানি নিষিদ্ধ মাছগুলো পাওয়া যাচেছ বলে কাস্টমরা আমাদের জানাচ্ছেন।
বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার থেকে আমদানি নিষিদ্ধ শাহজালাল ব্র্যান্ডের হিমায়িত (ফ্রোজেন) মাছে সয়লাভ হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজার। সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ থেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমদানি করা প্রায় ৭৬ হাজার ২৫ পাউন্ড মাছ বাজারে ছাড়া হয়। যে মাছগুলো বাজারে ইউএসডিএ’র পুনপরির্দশন ছাড়া ওয়্যার হাওজের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু এসব মাছ এখন পাওয়া যাচ্ছিল নিউইয়র্কসহ আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোর বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের সুপার মার্কেট ও গ্রোসারিতে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ইউএসডিএ’র কর্মকর্তারা প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন গ্রোসারি বা সুপার মার্কেট পরিদর্শন করে নিষিদ্ধ মাছগুলো তুলে নিতে থাকে। মানবদেহে ক্ষতিকারক এসব মাছ কিনে বা খেয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন লাখ লাখ প্রবাসী।
আমদানি নিষিদ্ধ গোফওয়ালা মাছ অর্থাৎ মাগুর, আইড, বোয়াল বা পাবদা, বাতাসি প্রজাতির ৭৬ হাজার ২৫ পাউন্ড হিমায়িত মাছের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দফতরের খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ বিভিন্ন গ্রোসারিতে হানা দেয় এবং গ্রোসারি কর্তৃপক্ষের সম্মতি সাপেক্ষে তা বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমদানির পর পুনঃপরিদর্শন না করিয়ে এইসব মাছ বাজারে ছাড়া হয়েছিল বলে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার্স ফুড সেফটি আ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস থেকে জানানো হয়েছে। যারা ইতোমধ্যেই এই মাছ ক্রয় করেছেন তাদেরকে তা না খাওয়ার জন্য এবং তা ফেলে দিতে অথবা যে দোকান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফেরত দেয়ার জন্য এফএসআইএস থেকে আহ্বান জানান হয়েছিল।
নিউইয়র্কের উডসাইড ভিত্তিক কোম্পানী বাংলাদেশি কমিউনিটির অতি পরিচিত প্রিমিয়াম ফুডস ইউএসএ ইনক এই মাছের আমদানিকারক। শাহজালাল ব্র্যান্ডে প্যাকেটজাত করে তারা এই সব মাছ বাজারে ছেড়েছিল। এফএসআইএস-এর নির্দেশে তারা এখন আমদানিকৃত এ ধরনের ৭৬ হাজার ২৫ পাউন্ড হিমায়িত মাছ বাজার থেকে প্রত্যাহার অব্যাহত রাখছে।
এফএসআইএস থেকে বলা হয়েছে, মাগুর-বোয়াল জাতীয় শুঁড় বা গায়ে শিরা-পাখনা জাতীয় মাছ রফতানির কোন অনুমোদন বাংলাদেশ ও মিয়ানমার রাষ্ট্রের নেই। এ দুটি দেশ থেকে এই মাছ আমদানি করা হয়েছে ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ৮ মার্চের মধ্যে। খুচরা বিক্রয়ের জন্য এগুলোর চালান গেছে কলোরাডো, কানেকটিকাট, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ইলিনয়, মিশিগান, নিউজার্সী, নিউইয়র্ক এবং পেনসিলভানিয়ায়।
এই মাছ বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হলেও এই মাছ খেয়ে কারো কোন ক্ষতি হয়েছে কিনা এমন কোন সুনির্দিষ্ট খবর কোন জায়গা থেকে পাওয়া যায়নি বলেও এফএসআইএস জানিয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক সুপার মার্কেট ও গ্রোসারিতে এখনও আমদানি নিষিদ্ধ মাছগুলো পাওয়া যাচ্ছে।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.