মঙ্গলবার , ২0 অগাস্ট ২0১৯, Current Time : 2:31 am
  • হোম » এ সপ্তাহের খবর »
    তানজিনা শারমীন ইয়াসমীনের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ
    জ্যাকসন হাইটসে অভিনব নারী প্রতারক




তানজিনা শারমীন ইয়াসমীনের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ
জ্যাকসন হাইটসে অভিনব নারী প্রতারক

সাপ্তাহিক আজকাল : 10/08/2019

জ্যাকসন হাইটসের ৭৪ স্ট্রীটের বেসমেন্টের কাপড়ের দোকান পরিধানের কর্ণধার তানজিনা শারমীন ইয়াসমীন প্রতারণার মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজের ব্যবসার পার্টনার করার নাম করে বেশ ক’জন প্রবাসীর কাছ থেকে তিনি গত কয়েক বছরে এসব ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন। এর মধ্যে লং আইল্যান্ডের প্রবাসী বাংলাদেশি ফাহিম রহমানের কাছ থেকে নিয়েছেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ডলার। এ অর্থগুলো শারমীন ইয়াসমীন চেক ও ক্যাশের মাধ্যমে নিয়েছেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শারমীন ইয়াসমীন এসব অর্থ নিলেও এ পর্যন্ত লাভতো দূরের কথা আসলও ফেরত দেননি। এ অর্থ শারমীন ইয়াসমীনকে দিয়ে ফাহিম রহমান এখন পথে বসেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ফাহিম রহমান নয় নিউইয়র্কের অনেক সহজ সরল নিম্ন আয়ের নারী-পুরুষের কাছে শারমীন ইয়াসমীন একই পন্থায় হাজার হাজার ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ধরনের ডজনের মত অভিযোগ সাপ্তাহিক আজকালের হস্তাগত হয়েছে। এর মধ্যে একজন এলমাহস্টের বাংলাদেশি রুজলিন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, ২০১২ সাল থেকে পরিধানের কর্ণধার তানজিনা শারমীন ইয়াসমীনের সঙ্গে পরিচয়। তার সঙ্গে বিভিন্ন সময় আলাপচারিতা হত। একদিন তিনি আমাকে তার ব্যবসার পার্টনার হওয়ার অফার দেন। আমি তাতে সম্মত না হলে তিনি আমার কাছ থেকে ডলার ধার চান। আমি তাকে চেকের মাধ্যমে ১৫ হাজার ডলার এবং পরবর্তীতে আরো পাঁচ হাজার ডলার দিই। ডলারগুলো দেয়ার কয়েক মাস পর তার কাছ থেকে ফেরত চাইলে তিনি গড়িমশি শুরু করেন এবং আমাকে লাভ দেয়ার কথা বলেন।
রুজলিন বলেন, লাভতো দূরের কথা এখন পর্যন্ত আমার আসল অর্থও ফেরত দেননি শারমীন ইয়াসমীন। একইভাবে তিনি ব্রুকলিনের আরেক বাংলাদেশি পারভীনের কাছ থেকেও ১৫ হাজার ৩শ ডলার নিয়েছেন। এ তালিকায় আরো রয়েছেন এলমাস্টের নাসরিন, লং আইল্যান্ডের রিংকী (কোলকাতা ) এবং ডানকিন ডোনাটসে কর্মরত আপেলের নাম। তাদের কাছ থেকেও শারমীন ইয়াসমীন হাজার হাজার ডলার নিয়েছেন বলে জানান রুজলিন।
এছাড়া সীমা, মিতা, রিংকী মিলে তাদের সমিতি থেকে প্রায় দেড় লাখ ডলার শারমীনকে লাভের আশায় দিয়ে পস্তাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভোক্তভোগীরা।
ব্রকলিনের বাসিন্দা এবং একটি হোম কেয়ারে কাজ করেন পারভীন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, আমি শারমীন ইয়াসমীনের কাছ থেকে ১৫ হাজার তিনশ ডলার পাই। গত ডিসেম্বরে আমি চেক এবং ক্যাশের মাধ্যমে এসব ডলার দিই। প্রথমে ধারের কথা বলে তিনি এসব ডলার নিলেও পরবর্তীতে লাভ দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু এ পর্যন্ত তিনি আমার ডলার ফেরত দেননি।
পারভীন বলেন, আমি গত তিন দিন আগে তার দোকানে যায় ডলার ফেরত চাওয়ার জন্য। এসময় শারমীন ইয়াসমীন যেভাবে পারেন কয়েকজনকে ডলারগুলো ফেরত দেবেন বলে জানান। আবার যারা বেশি ঝামেলা করেছেন তাদেরকে কোনদিন ডলার ফেরত বা লাভ দেব না বলেও হুমকি দেন।
আজকালের কাছে যে তালিকা এসেছে তা থেকে জানা যায়, রিংকি ৭০ হাজার ডলার, নাসরিন ৫০ হাজার ডলার, রুজলিন ১৬ হাজার ডলার, মিতা ২০ হাজার ডলার, ফরিদা ইয়াসমিন ২০ হাজার ডলার, সীমা ৫ হাজার ডলার, আপেল ৫ হাজার ডলার, জেসমিন ১৭ হাজার ৫০০ ডলার, পারভীন ১৫ হাজার ৩০০ ডলার, লং আইল্যান্ডেরএকজনের কাছ থেকে  ২৫ হাজার ডলার দিয়েছেন শারমীন ইয়াসমীনকে। আরো কয়েক জনের কাছ থেকে আরো ১৩ হাজার ডলার অর্থাৎ সর্বসাকুল্যে এ গ্রুপের কাছ থেকে ২ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বিশ্বাস জন্মিয়ে। এর মধ্যে জেসমিন ছিলেন পরিধানের সাবেক কর্মচারি। যাকে তার দুই মাসের প্রাপ্য বেতন না দিয়ে চাকুরিচ্যুত করা হয়।
এছাড়া জ্যাকসন হাইটসের অতি পরিচিতমূখ বক্সার সেলিমের স্ত্রী পাপিয়া বেগমের কাছ থেকেও ২৫ হাজার ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন শারমীন ইয়াসমীন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শারমীন ইয়াসমীন কোন সময় পরিধানের ব্যবসায়িক পার্টনার, কোন সময় ধার এবং কোন সময় লাভ দেয়ার নাম করে ভিন্ন ভিন্ন প্রবাসীর কাছ থেকে ডলারগুলো হাতিয়ে নেন। তিনি এসব অর্থ নিয়ে পরিধানের ব্যবসায়িক পরিধি বাড়াননি বরং আগামী রোববার পরিধান খালি করে চলে যাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, শারমীন ইয়াসমীন শুধু প্রবাসীদের নয় বাংলাদেশেও অনেকের কাছ থেকে এভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব অর্থ দিয়ে তিনি বিলাসী জীবন যাপন করতেন, নামী- দামী ব্র্যান্ডের কাপড়, হাত ঘড়ি, হাত ব্যাগ ব্যবহার করতেন এবং বছরে কয়েক বার অবকাশ যাপনে যেতেন।
ক্ষতিগ্রস্থদের অনেকেই বলছেন, শারমীন ইয়াসমীনের এ ধরনের কর্মকান্ড জানাজানি হওয়ার পর তাদের অনেকেই একত্রিত হয়ে অতি সম্প্রতি এস্টোরিয়াতে একটি বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে শারমীন ইয়াসমীন উপস্থিত হয়ে এসব অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি আগামী রোববার অর্থাৎ ঈদের দিন পরিধান বন্ধ করে দিচ্ছেন। দোকানের সব মালামাল অন্যত্র সরিয়ে ফেলবেন এবং ১৮ আগষ্ট লেইক জর্জে অবকাশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে পরিধানের সামনে ক্ষতিগ্রস্থদের অনেকেই ভীড় করছেন। তারা শারমীন ইয়াসমীন ও তার স্বামীকে না পেয়ে মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বিফল হচ্ছেন। কারণ তাদের নাম্বার শারমীন ইয়াসমীন বহু আগেই ‘ব্লক’ করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে তানজিনা শারমীন ইয়াসমীন ও তার স্বামীর নাম্বারে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বেশ কয়েক বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে সার্বিক বাস্তবতায় ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই ডিস্ট্রিক্ট এটর্ণী অফিসে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত: তানজিনা শারমীন ইয়াসমীনের বাড়ি বাংলাদেশের বরিশালে এবং তার স্বামী রুহুল ব্রঙ্কসের একটি ফার্মেসিতে টেকনেশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে তিনি চাকুরিচ্যুত হয়ে এখন উবার চালাচ্ছেন। তারা জ্যাকসন হাইটসের ৩৫ এভিনিউর ৭৬ স্ট্রীটে বসবাস করেন।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.