বুধবার , ১৬ অক্টোবর ২0১৯, Current Time : 2:23 am




কর্মস্থলে হানা : একদিনে গ্রেফতার ৬৮০

সাপ্তাহিক আজকাল : 10/08/2019

আজকাল রিপোর্ট
আনডক্যুমেন্টেড অভিবাসীদের গ্রেফতারে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। গত কয়েকদিনে কয়েক হাজার ‘অবৈধ’ অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টÑআইসিই। শুধুমাত্র মিসিসিপিতে অভিবাসীদের কর্মস্থলে হানা দিয়ে একদিনে আটক করা হয়েছে ৬৮০ জনকে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি বড় ধরনের গ্রেফতার অভিযান। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ রয়েছেন কি-না তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। বুধবার কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের ধরতে মিসিসিপির বিভিন্ন শহরে কর্মক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মিসিসিপির জ্যাকসনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোরর্সমেন্ট-আইসিই’র পরিচালক ম্যাথিউ অ্যালবেন্স জানান, আটককৃতদের মধ্যে কাউকে কাউকে অপরাধের জন্য আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হবে, কেউ কেউ দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কার হবেন আবার কাউকে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
জানা গেছে, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে আনডক্যুমেন্টেড অভিবাসীদের কর্মস্থলে আইসিই’র এ অভিযান চলবে।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের আতঙ্ক আরও বেড়েছে। তাদের বেশিরভাগই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গ্রেফতার এড়াতে কর্মস্থলে না যাওয়ায় আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে গেছে। এসব অভিবাসী পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এদিকে, অভিবাসন নিয়ে আদালতের নির্দেশ ও আইনকে তোয়াক্কা করছে না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আদালতের নির্দেশের পরও যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো সীমান্তে গত বছর থেকে প্রায় এক হাজার অভিবাসী শিশুকে তাদের মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে এ প্রক্রিয়া বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
অতীতে যেসব মানুষ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতো এবং অপরাধের কোনও রেকর্ড ছিল না, তাদের আইনের আওতায় অপরাধী সাব্যস্ত না করে শুধুই অস্থায়ীভাবে আটক করা হতো কিংবা বিতাড়িত করার সুপারিশ করা হতো। মা ও শিশুরা সাধারণত একসঙ্গেই থাকতো। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীর বিরুদ্ধে আইনগত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার প্রথম ৬ সপ্তাহেই প্রায় ২ হাজার শিশু পরিবার-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অতীতে এমন নজির দেখা যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে শিশুদের পরিবারের কাছে ফেরার আকুতি স্পষ্ট হয়ে পড়ে। তাদের কান্নার ছবি দেখে নড়েচড়ে বসে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদরা। সবার চাপে ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
চাপের মুখে শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নকরণ ঠেকাতে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করলেও অভিবাসী প্রশ্নে এখনও পূর্বের জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থাকেন ট্রাম্প। তবে একইসঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের ‘অপরাধী’ শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা ও শিশুদেরকে পরিবারের সঙ্গে থাকতে দেওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দেয়। মার্কিন আদালতের রায় অনুযায়ী ২০ দিনের বেশি কোন শিশুকে আটকে রাখার এখতিয়ার নেই অভিবাসন কর্তৃপক্ষের। তাই ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ও আদালতের রায়ের অবৈধ অভিবাসীর বিচার ও শিশুদের পরিবারের সঙ্গে থাকার প্রক্রিয়া সাংঘর্ষিক হয়ে যায়।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.