বুধবার , ১৬ অক্টোবর ২0১৯, Current Time : 2:22 am
  • হোম » এ সপ্তাহের খবর »
    আজকাল’কে জিএম কাদের
    বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করবে জাতীয় পার্টি




আজকাল’কে জিএম কাদের
বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করবে জাতীয় পার্টি

সাপ্তাহিক আজকাল : 10/08/2019

মাসুদ হোসেন, ঢাকা থেকে
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের মনে করেন, বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করছে। জাতীয় পার্টি সেই শূন্যতা পূরণ করবে। ফলে দলটির ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। তিনি আজকালকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এই অভিমত ব্যক্ত করেন। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মারা যাওয়ার পর তাকে দলের চেয়ারম্যান করা হয়। সাক্ষাতকারে এরশাদবিহীন জাতীয় পার্টির কর্মকৌশল, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, দলে ও দেশে এরশাদের অবদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।
জিএম কাদের বলেন, বিএনপি বর্তমানে মাঠে নেই। তারা রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতে পারছে না কিংবা তাদের কর্মকান্ড করতে দেয়া হচ্ছে না। যে কারণেই হোক তারা মাঠে নেই। সরকারী দল আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। দলটির অনেক নেতা-কর্মীই দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত। এই পরিস্থিতির কারণেই রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করছে। এই শূন্যতার কারণে জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি জনগণের দল, জনগণের মঞ্চ। জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়েই আমরা আন্দোলন করব। জনগণের দাবি আদায়ে শক্তিশালী কর্মসূচি দেব। এই আন্দোলন জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে চলবে। এভাবে আমরা জনগণের কাছে যাব।
জাতীয় পার্টি সরকারী দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করার পর সরকারের সমালোচনা করবে কীভাবে জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের বলেন, ‘আমরা বর্তমানে সরকারে নেই। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে গঠনমূলক সমালোচনা করছি। সংসদে আমাদের জোরালো উপস্থিতি রয়েছে। সেই তুলনায় বিএনপির উপস্থিতি খুবই ক্ষীণ। আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্র সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কাছে নিয়ন্ত্রিত। ফলে সংসদে দলতন্ত্রকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। ফলে সংসদীয় গণতন্ত্রে সংবিধানই সরকারকে অধিক ক্ষমতাশালী করে তুলেছে। ফলে কার্যকর কিছু করতে চাইলে সরকারের সঙ্গে ভাল বোঝাপড়া থাকা প্রয়োজন’।
তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘জাতীয় সংসদে সরকার বিরোধী গরম বক্তৃতা দিলে মানুষ খুব মজা পায়। বিষয়টা মানুষকে অনেক বেশি বিনোদন দেয়। এতে করে সংসদ অনেক বেশি প্রাণবন্ত মনে হতে পারে। কিন্তু কার্যকর কিছু করতে চাইলে সরকারের সমর্থন লাগবে। আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁেধ রাজনীতি করেছি। আমরা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের জোট নেতা হিসাবে মেনে নিয়েছি। ফলে আমাদের সঙ্গে সরকারের যে ধরনের সম্পর্ক রয়েছে তাতে জাতীয় পার্টির পক্ষে সংসদে বিএনপির মতো বিনোদনমূলক বক্তৃতা দেয়া সম্ভব না। কিন্তু বাস্তবে জনগণের জন্যে কার্যকর কিছু করতে হলে আমাদের মতো গঠনমূলক ভূমিকা নিতে হবে। সরকারকে শত্রু ভাবতে হবে এমন ধারণা মঙ্গলজনক নয়। আমরা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করছি। সরকারের কর্মকান্ডের সমালোচনা করে সংসদে বক্তৃতা করছি। তবে আমাদের সমালোচনার ভাষা আরও পরিশীলিত, কিছুতেই বিনোদনমূলক নয়। এখন আমরা ডেঙ্গু নিয়ে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছি।
জিএম কাদের বলেন, এরশাদ জাতীয় পার্টি সৃষ্টি করেছিলেন। এক পর্যায়ে অবস্থা এমন হয়েছিল যে, জাতীয় পার্টি মানে এরশাদ; এরশাদ মানে জাতীয় পার্টি। উনাকে সামনে নিয়ে জাতীয় পার্টি অগ্রসর হয়েছে। এরশাদকে বাংলাদেশের জনগণ ভালবেসে গ্রহণ করেছে। মৃত্যুর পরে তার জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।
তিনি প্রয়াত এরশাদের অবদানের ফিরিস্তি দিয়ে বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে এরশাদের অসামান্য অবদান রয়েছে। আজকে সাকিবসহ যতগুলি ভাল ক্রিকেটারের জন্ম হয়েছে; সবাই বিকেএসপি’র অবদান। আর এই বিকেএসপি সৃষ্টি করেছিলেন এরশাদ। এক সময় বিদেশীরা গলফ খেলতো। বাংলাদেশের মানুষ গলফ খেলা জানতো না। এরশাদ এদেশে গলফ খেলার প্রচলন করেন। এখন সিদ্দিকুর রহমানসহ অনেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গলফে ভাল করছেন। শিল্প ক্ষেত্রে তাকান। গার্মেন্টস শিল্পকে তিনি সামনে এগিয়ে নিয়েছেন। চামড়া শিল্পে বিশাল কাজ করেছেন। ওষুধ শিল্প তার হাত দিয়ে গড়া। এখন বাংলাদেশের ওষুধ বিদেশে রফতানি হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় অসামান্য উন্নতি করেছেন এরশাদ। উপজেলাকে গ্রোথ সেন্টার করেছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতায়ন করেছেন। উপজেলা সৃষ্টি করে প্রশাসনকে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিয়েছেন। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় তার হাত ধরে এসেছে। যমুনা সেতুর সব কাজ করে দিয়েছেন। ওষুধনীতি, স্বাস্থ্যনীতি, বাণিজ্যনীতি এসব অনেক কাজ তিনি করেছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সৈন্য পাঠানোর সময় অনেকে বিরোধিতা করেছিলেন। এখন তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে।
এরশাদকে অনেকে স্বৈরশাসক বলে থাকেন এ বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, এরশাদ দেশ শাসন করেছেন নয় বছর। তারপর ২৮ বছরই তিনি বিরোধী দলের রাজনীতি করেছেন। তিনি মূলত গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেছেন। ফলে ক্ষমতায় থাকার চেয়ে বেশি সময় বিরোধী দলে ছিলেন। এরশাদের শাসনকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন বিরোধী দলের নেতা। আবার শেখ হাসিনার শাসনকালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এরশাদ ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা। ফলে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে তিনি রাজনীতি করেছেন। এরশাদ ৩/৪ বছর মাত্র সামরিক শাসক ছিলেন। ওই সময়টাকে অনেকে অবৈধ বলে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ওই সময়ে এটা ছাড়া উপায় ছিল না। তার আমলে দেশে এমন দুর্নীতি ছিল না।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.