শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২0১৯, Current Time : 6:24 am




৬৪ হাজার হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন হবে ঢাকায়

সাপ্তাহিক আজকাল : 04/07/2019

বছর ঘুরে ফিরে এলো পবিত্র হজের মৌসুম। বাংলাদেশ থেকে আজ বৃহস্পতিবার হজব্রত পালনের জন্য আল্লাহর ‘মেহমানরা’ যেতে শুরু করবেন সৌদি আরব। আগামী এক মাস অবধি চলবে এই যাত্রা। এবার প্রথমবারের মতো হজযাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘবে বাংলাদেশের মাটিতে শুরু হচ্ছে ইমিগ্রেশন। ইতিমধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরে একটি এক্সক্লুসিভ ইমিগ্রেশন জোন খুলেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। উন্মুক্ত করা হয়েছে ১৫টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার। সেখানে সৌদি আরবের স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা এসে কাজ করছেন। এই এক্সক্লুসিভ জোনের সব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সৌদি আরব নিয়োজিত একটি টেকনিক্যাল দল। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিটি ডেডিকেটেড ফ্লাইটে মোট ৪১৯ জন যাত্রী পরিবহনের কথা। সে অনুযায়ী, ১৫টি কাউন্টারে ৪১৯ জন যাত্রীর প্রত্যেকের তিন মিনিট করে ইমিগ্রেশন করতে মোট ১ ঘণ্টা ২৩ মিনিট সময় লাগবে।

জানা গেছে, সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন করার জন্য শাহজালালের একটি অংশ ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পৃথক একটি বোর্ডিং ব্রিজও রাখা হয়েছে। যেসব হজযাত্রীর সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন শাহজালাল বিমানবন্দরে হবে, সেসব যাত্রীকে প্রথমে বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন আশকোনা হজ ক্যাম্পে সম্পন্ন হবে। পরে শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন করতে হবে। এসব হজযাত্রীকে কমপক্ষে ৮-১০ ঘণ্টা আগে আশকোনা হজ ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হবে।

তবে এ বছর সব হজযাত্রী সৌদি অংশের এই ইমিগ্রেশনের সুযোগ পাচ্ছেন না। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রীর মধ্যে ৫০ শতাংশ অর্থাত্ ৬৪ হাজারের বেশি এই সুযোগ পাবেন। যদিও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা মনে করছেন ৭০-৮০ হাজার হজযাত্রী এই সুযোগ পাবেন। সৌদি আরব অংশের ইমিগ্রেশন ঢাকা থেকে সম্পন্ন করে যাওয়ার ফলে জেদ্দা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের জন্য এহরামের পোশাক পরিহিত অবস্থায় হজযাত্রীদের আর দাঁড়িয়ে থেকে ৮-১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। জেদ্দায় নেমেই সরাসরি চলে যাবেন পবিত্র মক্কা-মদিনার গন্তব্যে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরব অংশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে হজযাত্রী প্রতি সময় লাগবে মাত্র তিন মিনিট। যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য বসার চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি ব্যবস্থাপনার সব (৭ হাজার ১৯৮ জন) যাত্রীর সৌদি আরব অংশের ইমিগ্রেশন শাহজালালেই হবে।

এ প্রসঙ্গে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন জোন পরিদর্শন করেছি। সব কিছু সুচারুভাবে হচ্ছে। এবারের ডেডিকেটেড ফ্লাইটে হাজির সংখ্যা ৯০ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে ৭০ হাজার ৫০২ জনের সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন সুবিধা শাহজালাল থেকেই নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী বছর সব হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারতসহ পৃথিবীর যেসব দেশ থেকে বেশি সংখ্যক মুসলিম হজ করতে যান— সেসব দেশে গত কয়েক বছর ধরে ইমিগ্রেশন চালু রয়েছে। ঐসব দেশের কোনো যাত্রীকে জেদ্দায় নেমে বাংলাদেশিদের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। এবছর বাংলাদেশে এই ইমিগ্রেশন চালু হলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার অভাবে সকল হজযাত্রীর সৌদি আরব অংশের ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, সৌদি কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে সেই সুযোগ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ৬০-৬৫ হাজার হজযাত্রীকে জেদ্দায় নেমে ১০-১২ ঘণ্টা ভয়ংকর বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যারা মিক্সড অর্থাত্ হজযাত্রীরা ছাড়াও অন্য যাত্রীসহ সৌদি আরব যাবেন, তারা ঢাকায় ইমিগ্রেশনের সুবিধা পাবেন না। এছাড়া, ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে যেসব হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন, তারাও এ সুবিধা থেকে বঞ্ছিত হবেন। আর চার্টার্ড বা ডেটিকেটেড ফ্লাইট হলো যে ফ্লাইটের সবাই হজযাত্রী।

সকাল সোয়া ৭ টায় আজ প্রথম ফ্লাইট:

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টায় ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে হজের প্রথম ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। বিমানের তথ্য মতে, এবার হজ মৌসুমে শিডিউলসহ মোট ৩৬৫টি ফ্লাইটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬৩ হাজার ৫৯৯ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে। অবশিষ্ট যাত্রী পরিবহন করবে সৌদি এয়ারলাইন্স। আজ প্রথম ফ্লাইটের পরে হজ ফ্লাইট বিজি-৩১০১ সকাল সোয়া ১১টায়, বিজি-৩২০১ বিকেল সোয়া ৩টায়, বিজি-৩৩০১ সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ও শিডিউল ফ্লাইট বিজি-০০৩৫ রাত সোয়া ৮টায় হাজিদের নিয়ে যাত্রা করবে বিমান। হজ মৌসুমে দুইমাসব্যাপী ৩০৪টি ডেডিকেটেড ও ৬১টি শিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। ৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রি-হজে মোট ১৮৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে (ডেডিকেটেড ১৫৭ এবং শিডিউল ৩২)। পোস্ট হজে ১১৫টি ফ্লাইট চলবে ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (ডেডিকেটেড ৮৬ ও শিডিউল ২৯)। তার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মদিনা ১৮টি ও মদিনা থেকে বাংলাদেশে ১৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এছাড়া, চট্টগ্রামে ১৯টি ও সিলেট থেকে ৩টি হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। বিমানের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, এবছর হজযাত্রীদের ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে পরিবহনের জন্য বিমানের ৪টি নিজস্ব বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বিমানের নিয়মিত শিডিউল ফ্লাইটেও হজযাত্রীরা জেদ্দায় যাবেন। ঢাকা থেকে জেদ্দা প্রতি ফ্লাইটের উড্ডয়ন সময় হবে প্রায় ৭ ঘণ্টা।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.