শনিবার, ২0 জুলাই ২0১৯, Current Time : 4:13 am




৭১ বছরে আওয়ামী লীগ

সাপ্তাহিক আজকাল : 23/06/2019

বাঙালি জাতির মুক্তির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে গণতান্ত্রিকভাবে জন্ম নেওয়া উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আজ গৌরবোজ্জ্বল ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ৭১ বছরে পা দিল টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকা দলটি।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দেয় দলটি। আওয়ামী লীগ মানেই জাতির অর্জন, সমৃদ্ধি আর সম্ভাবনার স্বর্ণালি দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণে জনপ্রিয়তায় ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে দলটি।

আওয়ামী লীগের জন্মদিনে সংগঠনের অগণিত নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন দলটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল এক বাণীতে তিনি জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এবার জমকালো আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে আজ রবিবার থেকে শুরু হয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি চলবে। রাজধানী ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সভা-সমাবেশ, সেমিনার ও র্যালি, প্রচার ও পুস্তিকা প্রকাশ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ থাকছে ব্যতিক্রমী আরো কিছু আয়োজন।

এবারই প্রথম প্রতি জেলা থেকে দু’জন করে প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকে সংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ। এছাড়া আওয়ামী লীগ যে বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত- পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেই রোজ গার্ডেনেও রয়েছে নানা আয়োজন। পুরনো দলীয় কার্যালয় ৯১ নবাবপুর রোডেও আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এই কার্যালয়েই ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছিল।

রোজ গার্ডেন থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ

পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে যে দলটির প্রতিষ্ঠা, সেই আওয়ামী লীগ আজ পেয়েছে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সুরম্য ১০ তলা নিজস্ব কেন্দ্রীয় কার্যালয়। আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। উপমহাদেশের রাজনীতিতে গত ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগ। এদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগের ভূমিকা প্রত্যুজ্জল। ৪৭’র দেশ বিভাগ, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র ছাত্র আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র যুগান্তকারী নির্বাচন আর ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন সবখানেই সরব উপস্থিতি ছিল আওয়ামী লীগের।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের নেতৃত্বাধীন তত্কালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কে এম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হক। তখন কারাবন্দি অবস্থায় তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিলে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক সংগঠনে পরিণত হয়। ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ।

১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে দলের আন্তর্জাতিক নীতির প্রশ্নে সোহরাওয়ার্দী-ভাসানীর মতপার্থক্যের কারণে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে যায়। ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত হয় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। আর মূল দল আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান বহাল থাকেন। ১৯৬৬ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৭০ সালের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অপরিবর্তিত থাকেন। এই কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দলের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি স্থগিত করা হয়। ১৯৭৬ সালে ঘরোয়া রাজনীতি চালু হলে আওয়ামী লীগকেও পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এক পর্যায়ে সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দলের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে নির্বাসনে থাকা বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার আগেই ১৯৮১ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি পদে বহাল থাকেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উত্রাই ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ আজ এ দেশের গণমানুষের ভাব-ভাবনার ধারক-বাহকে পরিণত হয়েছে।

কর্মসূচি

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্য উদয় ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও বেলা ১১টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রতিনিধি দলের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন।

এছাড়া আগামীকাল সোমবার বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.