শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২0১৯, Current Time : 12:58 am




এফবিআই ফাঁদ এবং বাংলাদেশি তরুণ

সাপ্তাহিক আজকাল : 15/06/2019

মনজুর আহমদ
নাফিস-আকায়েদের পর এবার আশিকুল। এফবিআই-এর হাতে আটক তিন বাংলাদেশি তরুণ। তিনজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ সন্ত্রাসের সাথে জড়িত থাকার। সরাসরি সন্ত্রাস নয়, অভিযোগ সন্ত্রাসের পরিকল্পনা বা সন্ত্রাসের চিন্তা-ভাবনা করার। এর মধ্যে একমাত্র আকায়েদ ম্যানহাটানের একটি স্টেশনে বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে নিজেই জখম হয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। নাফিস ম্যানহাটানের টাইমস স্কয়ারে একটি ফেডারেল ভবন উড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বিষ্ফোরণ ঘটাবার জন্য রিমোটের বোতাম টিপেও দিয়েছিল। সে ধারণাও করতে পারেনি পুরো ঘটনাটাই সাজানো। বিষ্ফোরণ ঘটেনি। বিষ্ফোরক বোঝাই গাড়িটি ছিল আসলেই ভুয়া। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হাতকড়া পরিয়ে দিয়েছিল এফবিআই।
আদালতের রায়ে ৩০ বছরের কারাদন্ড ভোগরত নাফিসের পক্ষে যুক্তি ছিল সে এফবিআই-এর ফাঁদের শিকার। এফবিআই দিনের পর দিন তার পেছনে লেগে থেকে তাকে এই কাজ করতে প্ররোচিত করেছে। আশিকুলও এফবিআই-এর ফাঁদে পড়েছে। এফবিআই-এর আন্ডারকভার এজেন্ট অস্ত্র বিক্রেতা সেজে তার হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। আশিকুল বুঝতে পারেনি। নাফিসও বুঝতে পারেনি। তাদেরকে ধোঁকা দেয়া হয়েছে, তাদেরকে বোকা বানানো হয়েছে।
এ নিয়ে এই মুহূর্তে প্রবল বিতর্ক বিভিন্ন মহলে। এই অবস্থাকে মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। তারা বলছেন, এমন ঘটনার জন্য দায়ী তো মূলত এফবিআই। তাদের আন্ডারকভার এজেন্টরা এইসব তরুণদের টার্গেট করে ফাঁদ পাতে এবং সেই ফাঁদে ফেলার জন্য বিভিন্নভাবে তাদেরকে প্রলোভিত করে। দিনের পর দিন তাদের পেছনে লেগে থেকে তাদেরকে দিয়ে এ ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটায়। তাদের অভিযোগ, কোন শ্বেতাঙ্গ বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের এফবিআই টার্গেট করে না। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের মতো দেশের মুসলিম ধর্মাবলম্বী তরুণেরা। এদেরকে তারা প্ররোচিত করে, উস্কানি দেয়।
কিন্তু এর বিরোধিতাকারীরা এ বক্তব্য মেনে নিতে পারছেন না। তারা বলছেন, এফবিআই অবশ্যই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে সুরক্ষা দিতে সন্ত্রাসের উৎসকেই সমূলে উৎপাটন করতে চাইবে। যে দেশে নাইন-ইলেভেনের মতো ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে, যে দেশকে ক্রমাগত নানা ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা মোকাবিলা করতে হয়, সে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি অতিরিক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাতে তাদেরকে নিশ্চয় দোষারোপ করা যায় না।
তারা বলছেন, যে তরুণেরা এফবিআই-এর ফাঁদে পা দিচ্ছে তারা তো সচেতনভাবে এবং সজ্ঞানে একটি চিন্তা-ভাবনা থেকেই তাদের পা বাড়িয়ে দিচ্ছে। সে চিন্তা হচ্ছে একটি সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটানো। এফবিআই তাদেরকে গোড়াতেই রুখে দিতে চায়। কৌশল অনুযায়ী এফবিআই তাদের সামনে যে সব প্রলোভন তুলে ধরে তারা তা গ্রহণ করেই তাদের লক্ষ্যে এগিয়ে যায়। কেউ তো এ সব প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে না। আন্ডারকভার এজেন্টদেরকে বন্ধু ভেবে পরম আস্থায় তাদের সাথে তার ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসী পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলে এবং তাদের পরিকল্পিত প্রস্তাবগুলি টোপ গেলার মতো সানন্দে গিলে নেয়।
ধরা পড়া তরুণেরা যে এফবিআই-এর আন্ডারকভার এজেন্টদের ফাঁদে সচেতনভাবে এবং সজ্ঞানেই পা দেয় এ সত্য অস্বীকার করা যাবে না। বন্ধুর বেশে এই এজেন্টরা আসে এবং তাদেরকে প্রভাবিত করে। এ দৃষ্টান্ত নতুন নয়। বারবার এই একই ঘটনা ঘটছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ছিল নাফিসের। একটি সন্ত্রাসী তৎপরতার যে চিন্তা-ভাবনা তার মাথায় কাজ করছিল তাকেই সুযোগ হিসাবে নিয়ে এফবিআই এজেন্টরা তার সামনে তুলে ধরেছিল ম্যানহাটানের জনবহুল এলাকার একটি ফেডারেল ভবন উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা। সে পরিকল্পনা নাফিস সজ্ঞানে ও সচেতনভাবেই গ্রহণ করেছিল। আদালতে এফবিআই-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছিল এই অন্যায় কাজে নাফিসকে প্ররোচিত করার জন্য। কিন্তু বিচারক গুরুত্ব দিয়েছিলেন নাফিসের কার্যকলাপের ওপর। তিনি বলেছিলেন, ব্যাপারটি সাজানো এবং বিষ্ফোরক বোঝাই গাড়িটি যে ভুয়া এটা তো নাফিস জানতো না। সব কিছুকে সত্য জেনেই সে বিষ্ফোরকের গাড়িতে বিষ্ফোরণ ঘটাতে রিমোটের বোতামে চাপ দিয়েছিল। যদি এটি ভুয়া না হতো, যদি গাড়িতে বাস্তবিকই বিষ্ফোরক থাকত, তবে ফেডারেল ভবনটি ধ্বংস হয়ে যেত। এ অপরাধের দায় নাফিস এড়াতে পারে না।
নাফিসের ঘটনা ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল সকল প্রচার মাধ্যমে। বিভিন্ন মহলে বিশেষ করে বাংলাদেশিদের ঘরে ঘরে আলোচিত ছিল সে ঘটনা। তারপরও কেন আবার আশিকুলের ঘটনা ঘটল? আশিকুল নিজে জন জে কলেজের ক্রিমিনাল জাস্টিসের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তার তো অজানা থাকার কথা নয় এফবিআই এজেন্টদের তৎপরতার কথা। কিন্তু তারপরও তার এই ফাঁদে পা দেয়ার যুক্তি কি? পুরো বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটি যেমন বিব্রত তেমনি শঙ্কিত। উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে।
এমন ঘটনার আর কোন পুনরাবৃত্তি কারো কাম্য নয়। আমারাও আশা করব আমাদের তরুণেরা সন্ত্রাসের মতো ঘৃণ্য ও অশুভ চিন্তা থেকে মুক্ত থাকবে এবং অভিভাবকরাও সতর্ক থাকবেন তাদের সন্তানেরা যেন বিপথগামী না হয়।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.