মঙ্গলবার , ২৫ জুন ২0১৯, Current Time : 2:30 am
  • হোম » জাতীয় » বিএসএমএমইউয়ে হামলা ভাঙচুর, পুলিশ লাঞ্ছিত




বিএসএমএমইউয়ে হামলা ভাঙচুর, পুলিশ লাঞ্ছিত

সাপ্তাহিক আজকাল : 12/06/2019

চিকিত্সক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ক্ষেত্রে আপস না করায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছে আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের নামে ভিসি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বাধা দেওয়ায় লাঞ্ছিত হয়েছে পুলিশ। তুলকালাম অবস্থার প্রেক্ষিতে চিকিত্সক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। আন্দোলন জিইয়ে রাখার নেপথ্যে স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের (স্বাচিপ) কতিপয় নেতা জড়িত বলে দাবি করেছেন সিনিয়র চিকিত্সকরা।

জানা গেছে, ডাকসুর এক শীর্ষ নেতা ১২ জনকে চিকিত্সক হিসেবে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে বলেছিলেন। কিন্তু ওই ১২ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। পরে ডাকসুর ওই নেতা ‘খবর আছে’ বলে ভিসিকে হুমকি দেন। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। আন্দোলন বেপরোয়া রূপ নেওয়ায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করতে থাকে। ব্যাহত হতে থাকে চিকিত্সাসেবাও। বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। চিকিত্সক নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই আন্দোলনকারীরা কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই তাদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি করে। পরীক্ষা নিলেও তারা যাতে নিয়োগ পান সেটা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কোনো চাপের কাছে মাথা নত করেননি।

জানা গেছে, বিএসএমইউয়ে ১৮০ জন মেডিক্যাল অফিসার ও ২০ জন ডেন্টাল চিকিত্সক পদে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৮ হাজার ৫৫৭ জন চিকিত্সক অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় ১ পদের বিপরীতে পাস করেন ৪ জন। হিসেবে ৭১৯ জন মেডিক্যাল অফিসার ও ডেন্টালের ৮১ জন মিলে মোট ৮২০ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। গত সোমবার থেকে উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। মৌখিক পরীক্ষা শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মেধার ভিত্তিতে চিকিত্সক নিয়োগ দিতে হবে। মেধার ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ীই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম দিন সুষ্ঠুভাবে মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দিন গতকাল সকাল থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত প্রথম ধাপের ভাইভা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল দুপুর ১টায়। কিন্তু বেলা সাড়ে ১১টায় বিএসএমএমইউয়ের সহকারী অধ্যাপক, কনসালটেন্ট ও মেডিক্যাল অফিসারের একাংশের নেতৃত্বে সরাসরি আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তাঁরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগদানের পরই শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা। এ সময় আন্দোলনকারীরা ভিসির কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করে। এতে পুলিশ বাধা দেয়। উপ-পুলিশ কমিশনার আজিম তাদের সরিয়ে দিলে আন্দোলনকারীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশকে কিলঘুষি মারে। শরীরে শক দেওয়ার যন্ত্র পুলিশের ওপর ব্যবহার করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তা আজিমের হাতের ঘড়ি খুলে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। পরে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হলে আন্দোলনকারীরা চলে যান।

বিএসএমএমইউয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমি মেধার ক্ষেত্রে কোনো আপস করব না। যারা মেধাবী তারাই ডাক্তার হবে। মেধা নিয়ে আপস করলে এটি বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে না, তদ্বিরকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সিন্ডিকেটের মিটিংয়ে নিয়োগ পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, বিএসএমএমইউয়ে চিকিত্সক নিয়োগে যাতে শিবির ও যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা নিয়োগ না পায় সেদিকে খেয়াল রাখছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। বিএসএমএমইউয়ের সিনিয়র চিকিত্সকরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে, বিএমএ’র বাইরে স্বাচিপ ও ড্যাব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্য খাতে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে।’ জানা গেছে, বর্তমান ভিসিকে মেনে নিতে পারেননি এক শ্রেণির চিকিত্সক। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভিসি হতে চান। সিনিয়র অধ্যাপকরা তাদের আচারণে মর্মহত।

পরীক্ষা বাতিলের দাবি আন্দোলনকারীদের

এদিকে আন্দোলনকারীরা বিএসএমএমইউয়ে চিকিত্সক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে দাবি করে বলেন, তারা আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করেছেন। নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা না হলে আবার আন্দোলনে নামবেন। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগও দাবি করেন। – ইত্তেফাক



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.