মঙ্গলবার , ২0 অগাস্ট ২0১৯, Current Time : 2:13 am
  • হোম » Uncategorized » মানুষের সেবায় সি অ্যান্ড টি হোম কেয়ার




মানুষের সেবায় সি অ্যান্ড টি হোম কেয়ার

সাপ্তাহিক আজকাল : 08/06/2019

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
মানবতার কল্যাণে কাজ করার যাওয়ার তাগিদ থেকে নিউইয়র্কে গড়ে উঠেছে সি অ্যান্ড টি হোম কেয়ার (C&T HOME CARE) । নিউইয়র্কের পাঁচটি বোরো এবং নাসাও কাউন্টিতে সেবা দিয়ে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। তাদের লক্ষ্য যতটা না ব্যবসায় করা; তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কেবল বার্ধক্যে থাকা মানুষদের জন্যে নয়, এই প্রতিষ্ঠানটি গভীর মমতায় সেবা দিয়ে চলেছে সব বয়সী মানুষকে। বিশেষ করে যাদের নানা ধরণের দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়ানোই সি অ্যান্ড টি হোম কেয়ারের C&T HOME CARE) অন্যতম কাজ। বয়স্কদের বাড়িতে রেখে সেবা দেয়ার পাশাপাশি, অটিস্টিক শিশুদের জীবন যাপনে চমৎকার ব্যবস্থাপনার জন্যে, এরিমধ্যে সুনাম কুঁড়িয়েছে তারা।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ও প্রেসিডেন্ট জেমস হোসেন জানিয়েছেন, একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতি থেকে তার এমন একটি কাজের সূচনা। তিনি বলেন, বলতে পারেন আমার মায়ের জন্যেই এমন একটি ভাবনা আমার মাথায় এসেছে। ১২ বছর আগে মা স্ট্রোক করে একেবারে অচল হয়ে পড়েন। তাঁর যে কষ্ট, সেটা চোখের সামনে দেখেছি। অবর্ণনীয় সেই যন্ত্রণার সঠিক ব্যবস্থাপনা তখন আমাদের জানা ছিল না। কালক্রমে আমরা শিখেছি। চমৎকার ব্যবস্থাপনা এবং সেবায় এখনোও মা আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। বলতে বলতে অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন জেমস হোসেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে আমার মাকে বাংলাদেশ থেকে এখানে নিয়ে আসি। তখন তিনি খুব অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিলেন। নিউমোনিয়া হয়ে গিয়েছিল। প্লেন থেকে নামার তিনঘন্টার মধ্যেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল। সেইসময় হাসপাতালের ক্যাফেটোরিয়ায় আমার ডাক্তার বন্ধুদের সাথে আলাপচারিতায় হোম কেয়ার C&T HOME CARE) প্রতিষ্ঠার কথা ভাবি। পরে এ নিয়ে কাজ শুরু হয়। আর ওই বছরের সেপ্টেম্বরেই যাত্রা শুরু করে সি অ্যান্ড টি হোম কেয়ার C&T HOME CARE)।
জেমস হোসেন বলতে থাকেন, তখন ভেবেছি, এই সেবাটা যেন সবাই পায়। একজন অসুস্থ্য মানুষ, এমনিতেই অনেক অসহায় অবস্থায় থাকেন। তার মনটা দূর্বল হয়ে পড়ে। কঠিন সময়ে তার প্রয়োজন পাশে থেকে সমর্থন পাওয়ার। সেটা দেয়াই আমাদের কাজ।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে থাকা ‘সি’ অক্ষর দিয়ে বোঝানো হয়েছে ‘কমপ্যাশন’ বা সহানুভূতি। অন্যদিকে ‘টি’ দিয়ে বোঝানো হয়েছে ট্রাস্ট। বিশ্বাস এবং আস্থা নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, এর আগে আমার বাবার ক্যনাসার ধরা পড়ে। ফলে বুঝতেই পারছেন, সংকট কতটা গভীরে ছিল। তাই কেবল ব্যবসার জন্যে নয়; মানুষকে সেবা দেয়ার জন্যে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থ্যতায় থাকা যে কেউ আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরাই পৌঁছে যাবো তাদের কাছে।
ব্রঙ্কসে প্রতিষ্ঠানটির নতুন আরও একটি শাখা উদ্বোধন হবে আগামী ১০ জুন, সোমবার। এটিসহ সি অ্যান্ড টি হোম কেয়ারের ঈ্ঞ ঐঙগঊ ঈঅজঊ) শাখা দাঁড়াবে চারটিতে। তার মধ্যে জ্যামাইকায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়। এ ছাড়া আরও দুটি শাখা রয়েছে জ্যাকসন হাইটস এবং ম্যানহাটানের ওয়াশিংটন হাইটসে। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এখন প্রতিষ্ঠানটির সেবা পাচ্ছে। বাংলাদেশি মানুষকে সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য। তবে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান হিসেবে সব মানুষকে সেবা দেয়া, তাদের পাশে দাঁড়ানোর ব্রত নিয়ে এগিয়ে চলেছে সি অ্যান্ড টি হোম কেয়ার C&T HOME CARE)। অন্যান্য কয়েকটি স্টেটেও এই প্রতিষ্ঠানের কাজ রয়েছে।
২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে নিউইয়র্কের গভর্ণর এন্ড্র কুমো একটি নিয়ম করেন। সে অনুযায়ী, ‘দ্য কনজ্যুমার ডিরেক্টেড পার্সোনাল এসিসটেন্স প্রোগ্রাম বা সিডিপ্যাপ’ কর্মসূচি চালু হয়। এই কর্মসূচি অনুযায়ী একজন সেবাগ্রহিতা নিজেই তার কেয়ারগিভার বা সহায়তাকারী বাছাই করতে পারেন। সেবা দেয়ার সেই মানুষটি এমনকি তার পরিবারের সদস্যও হতে পারেন। এতে করে দুটি কাজ হচ্ছে। একদিকে যার সেবা প্রয়োজন, তিনি সেটা পাচ্ছেন। অন্যদিকে পরিবারের কেউ ঘরে থেকে আয় করতে পারছেন। এক্ষেত্রে সহায়তা দিচ্ছে সি অ্যান্ড টি হোম কেয়ার।
এটি নিউইয়র্ক স্টেটের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একটি হোম কেয়ার এজেন্সি। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনে পার্সোনাল কেয়ার এজেন্ট বাড়িতে পাঠায়। নিউইয়র্কের সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত বড় বড় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলোর বিভিন্ন সার্ভিসের জন্যে তাদের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। সেবাগ্রহিতার বাড়িতে প্রতিষ্ঠানটি নার্সরা গিয়ে এক ধরণের এসেসমেন্ট করেন। প্রয়োজনে ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট, ওকুপেশনাল থেরাপিস্ট এবং নিউট্রেশনিস্ট পাঠিয়েও সেবা দেয়া হয়। এছাড়া তাদের রয়েছে নিজস্ব সোশ্যাল ওয়ার্কার। যাদের মেডিকেইড নেই, তাদেরকে সেটা করে দেয়াসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সেবা দেয়া হয়। বাংলা, ইংরেজি, স্পেনিশ, হিন্দি, উর্দু, চায়নীজসহ বিভিন্ন ভাষায় সেবা দেয়া এই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পার্সোনাল কেয়ার সার্ভসিসের আওতায় ড্রেসিং, হাউজ কিপিং, খাবার তৈরি, টয়লেট করানো, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করানো এবং পরামর্শ দেয়ার মতো সেবাগুলো রয়েছে। বয়স্ক কিংবা প্রয়োজন আছে এমন মানুষেরা এই সেবাগুলো পেতে পারেন। এ ছাড়া কমপেনিন এবং হোমমেকার সার্ভিসও রয়েছে।
আমেরিকায় কারো মৃত্যু হলে কবরের ব্যবস্থা করাটা বেশ ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য কাজ। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির জন্যে সেটা কঠিন হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিউইয়র্কে সি অ্যান্ড টি হোম কেয়ারই C&T HOME CARE) একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা তাদের সদস্যদের মৃত্যুর পর কবরের ব্যবস্থা করে থাকে।
সি অ্যান্ড টি হোম কেয়ারের C&T HOME CARE) উদ্যোক্তা জেমস হোসেন আরও বলেন, মানুষকে সেবা দেয়ার পাশাপাশি; কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হচ্ছে তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। বাংলাদেশি অনেক মানুষ তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করছে। অন্যান্য দেশের মানুষও রয়েছে। আমেরিকায় দক্ষ নার্সের অনেক চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার জন্যে ইংরেজি জানতে হবে। সেই সাথে নার্সের পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে হবে। বাংলাদেশি নার্স নেয়ার এক ধরণের কোটা রয়েছে। সেগুলো অপূর্ণই থেকে যাচ্ছে। কেননা অনেকে বিষয়টা জানে না। আবার অনেকে ইংরেজি না জানার কারণে, পরীক্ষা দিয়ে পাশও করতে পারছে না। তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেই সংকট নিয়েও কাজ করার কথা জানিয়ে জেমস হোসেন বলেন, এজন্যে আগামী জুলাই মাসে আমরা বাংলাদেশে যাচ্ছি।
সারা বিশ্বজুড়েই বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। দেশগুলোর সরকার বয়স্কদের সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত। ফলে নানান ধরণের সেবা দেয়ার পরিকল্পণা তাদের রয়েছে। যেমনটি রয়েছে আমেরিকাতেও। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসা অনেকে বিষয়গুলো পরিস্কারভাবে জানে না। অটিস্টিক সন্তানের বাবা মায়েদের জন্যেও নানা সেবা রয়েছে। তাদের সেবা পাওয়ার অধিকার, কি কি সেবা তারা পেতে পারে, কিভাবে পেতে পারে, সেটা জানানো এবং সেবা নিশ্চিত করার জন্যে কাজ করে যাচ্ছে সি অ্যান্ড টি হোম কেয়ার। (C&T HOME CARE) সাথে সব ধরণের যোগাযোগে টেলিফোন করা যেতে পারে ৭১৮-৪২৪-৪২০০ এই নম্বরে।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.