সোমবার , ৯ ডিসেম্বর ২0১৯, Current Time : 1:07 am
  • হোম » আন্তর্জাতিক »
    ভারতে শেষ ধাপে ভোট রোববার : ফলাফল ২৩ মে
    মোদিকে নিয়ে আতঙ্কে মুসলমানরা




ভারতে শেষ ধাপে ভোট রোববার : ফলাফল ২৩ মে
মোদিকে নিয়ে আতঙ্কে মুসলমানরা

সাপ্তাহিক আজকাল : 18/05/2019

লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
কৃষœকুমার দাস, কলকাতা থেকে
ভারতে গত কয়েক বছরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আবারও ক্ষমতায় এলে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশটি মুসলিমদের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। বৃহস্পতিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মুসলিমদের সেই ভয়।
১৯ মে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম ও শেষ ধাপের লড়াই। এ ধাপে উত্তরপ্রদেশের বারানসি আসনে ভাগ্য নির্ধারণ হবে মোদির। ২৩ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের কয়েকদিন পরেই একদল দুর্বৃত্তের রোষানলে পড়েন আসামের মুসলিম ব্যবসায়ী শওকত আলি। ওই ব্যবসায়ীকে ঘিরে ধরেন কয়েকজন। তাকে কাদামাটির মধ্যে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয়। ভিড়ের ভেতর থেকেই একজন চিৎকার করে বলেন, তুমি কি বাংলাদেশি? অন্য একজন তাকে ধাক্কা দিয়ে বলেন, এখানে গো-মাংস বিক্রি করেছ কেন? আশপাশের লোকজন তাকে সাহায্য করার বদলে এ ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
ওই ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না শওকত আলি। বিছানায় শুয়ে ওই ভয়াবহ ঘটনা মনে করতেই চোখে পানি চলে আসে ৪৮ বছর বয়সী এ ব্যবসায়ীর। তিনি বলেন, তারা লাঠি দিয়ে আমাকে পিটিয়েছে। আমার মুখে লাথি মেরেছে। তিনি এবং তার বাবা কয়েক দশক ধরেই আসামে একটি ছোট খাবারের দোকান চালান। সেখানে অন্য খাবারের সঙ্গে গো-মাংসও থাকে। কিন্তু আগে কখনওই তাকে এজন্য এমন সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। শওকত আলি বলেন, আমার আর বেঁচে থাকার কোনো মানেই নেই। তারা আমার ওপর নয় বরং আমার ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আক্রমণ করেছে।
এ ঘটনার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই শওকত আলির সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তার মুখে সব শুনে অনেকেই কেঁদে ফেলেন। তাদের মধ্যে এখন একটাই আতঙ্ক বিরাজ করছে যে, সামনের দিনগুলোতে তাদেরও হয়তো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
আসামে নাগরিকপঞ্জির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। যারা ভারতের নাগরিক নন তাদের বের করে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে দেখা যাচ্ছে, এখানেও বেছে বেছে মুসলিমদের ওপরই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বেশি।
ভারতে বর্তমানে ১৭ কোটি ২০ লাখ মুসলিম বাস করেন। বর্তমানে মোদির শাসনামলে গো-মাংস ক্রয়, বিক্রয়, সঙ্গে বহন করা বা খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহু মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ২০১৫ সালের মে থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের ১২ রাজ্যে অন্তত ৪৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ জনই মুসলিম।
হলফনামায় দেয়া মিমির যতো সম্পত্তি:
এদিকে, ষষ্ঠ ধাপের পর এবার হিমাচলপ্রদেশ, পাঞ্জাব, চন্ডিগড়ের পাশাপাশি বিহারের ৮টি, ঝাড়খন্ডের ৩টি, মধ্যপ্রদেশের ৮টি, উত্তরপ্রদেশের ১৩টি এবং পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আসনে ভোট বাকি। সপ্তম ধাপে ভাগ্য নির্ধারণ হবে টালিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর।
তিনি এবারের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতার যাদবপুর তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী। প্রার্থিতা পাওয়ার পর থেকেই তিনি ও কেন্দ্রটি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে। এ প্রার্থীকে ঘিরে তৈরি বিতর্ক যেন থামছেই না। এবার নতুন বির্তকে জড়ালেন অভিনেত্রী মিমি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া তার হলফনামার তথ্য নিয়ে বিতর্কে মেতেছে ভারতীয়রা।
মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় সঙ্গে দেয়া হলফনামায় নিজের সম্পত্তির হিসাব দিতে গিয়ে মিমি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় ২৫ হাজার টাকা। আর এটি প্রকাশ হলে এ নিয়ে রসিকতা ও সমালোচনায় মেতে ওঠে যাদবপুরবাসী। তবে অনেক ঋণ রয়েছে এই টালি তারকার। হলফনামায় মিমি লিখেছেন, ১৯ লাখ ৭৮৮ রুপির ঋণে ডুবে আছেন তিনি। তাই বলে তার গোচ্ছিত অর্থের পরিমাণ কিন্তু কম নয়। সেখানে মিমি চক্রবর্তীর নামে ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮২৫.৩৬ রুপি ব্যাংকে গচ্ছিত দেখানো হয়েছে। নিজের ব্যবহৃত গাড়ির কথাও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন এই অভিনেত্রী। মিমির মালিকানায় রয়েছে দুটি গাড়ি। এই দুটি গাড়ির মূল্য জানানো হয়েছে মোট ৪২ লাখ ২৩ হাজার ২৭৩ রুপি। মিমির কাছে গয়না রয়েছে ২৩ ভরি যার ভারতীয় বাজার দর ৮ লাখ ৮৫ হাজার ১৩ রুপি। এসব গয়নার বেশিরভাগই উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বলে হলফনামায় জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে মিমির স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৬৭৫ রুপি।
হলফনামায় আরও যে তথ্য দেয়া হয়েছে, কোনোরকম অপরাধমূলক মামলা নেই মিমির। তার নামে কোনো জমিও নেই।
মিমির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক লেখা হয়েছে। ২০১১ সালে আশুতোষ কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত যাদবপুর থেকে সংসদীয় যাত্রা শুরু হয়েছিল তৃণমূল সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জির। ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন তিনি। আর এবার টালি অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী সেই যাদবপুর থেকেই মমতার হাত ধরে ভারতের সংসদে যেতে চাইছেন।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.