বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর ২0১৯, Current Time : 1:30 am




কোরআন শেখার শ্রেষ্ঠ সময় মাহে রমজান

সাপ্তাহিক আজকাল : 16/05/2019

মানবজাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের মযার্দা দিয়ে সৃষ্টি করে তাদের হেদায়েতের জন্য যুগে যুগে তাঁর পথপ্রদর্শক নবি-রাসূলদের এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। তাদেরকে সত্য পথের দিশা দেয়ার জন্য নাজিল করেছেন আসমানি কিতাবসমূহ। আল-কুরআন এই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ কিতাব; যা সুদীর্ঘ তেইশ বছরে আল্লাহ তায়ালা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উপর অবতীর্ণ করেন। মানব জীবনের সকল দিক আলোচিত হয়েছে এতে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এক বরকতময়, কল্যাণময় গ্রন্থ আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি যেন তারা এর আয়াতসমূহ অনুধাবন করে এবং বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিগণ উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সুরা সাদ : ২৯)

আল-কুরআন নাজিল হয় সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজানে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা সিয়ামকে গ্রহণ করলেও যেভাবে কুরআনকে গ্রহণ করা উচিত ছিল ঠিক সেইভাবে কুরআনকে গ্রহণ করতে পারিনি। মহান আল্লাহ কুরআনের সাথে রমজানের সিয়ামকে জড়িত করেছেন। হাদীস শরিফ থেকে জানা যায়, রমজানের সাথে কুরআনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে দু’ভাবে। প্রথমত: রমজানে রাতদিন কুরআন তিলাওয়াত করা এবং দ্বিতীয়ত: রাতে কিয়ামুল্লাইল বা তারাবিহের সালাতে কুরআন পড়া বা শোনা।

মুমিনের অন্যতম ইবাদত ও সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির হলো কুরআন তিলাওয়াত করা। কুরআন কারীমের একটি আয়াত শিক্ষা করা ১০০ রাকাত নফল সালাতের চেয়েও উত্তম বলে হাদীসে বলা হয়েছে। যদিও সারা বৎসরই তিলাওয়াত করা উচিত, তদুপরিও বিশেষত: রমজান মাসে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বিশেষ সুন্নত, যাতে রয়েছে অতিরিক্ত সাওয়াব ও বরকত। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এখনো অনেক মুসলমান কুরআন বুঝা তো দূরের কথা; কুরআন পড়তেই পারেন না। যদি দুনিয়ার কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী বা এমপি আপনাকে ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায় একটি চিঠি পাঠায় তাহলে তা পড়তে ও বুঝতে আপনি কতো ব্যস্ত হন! প্রয়োজনে শিক্ষিত লোকের দ্বারস্থ হন! আর রাব্বুল আলামীন আল্লাহ তাঁর হাবীব মুহাম্মাদ (সা.)-এর মাধ্যমে আপনাকে এ কিতাব সদৃশ চিঠি প্রেরণ করলেন অথচ আপনি একটু পড়েও দেখলেন না। অথবা পড়ার জন্য পেরেশানীও মনের মধ্যে রাখলেন না। আল্লাহর কাছে পরকালে কী জবাব দিবেন?

আল্লাহর কিতাব পাঠ করাকে কুরআন কারীমে ‘তিলাওয়াত’ বলা হয়েছে, কারণ এর শাব্দিক অর্থ পিছে চলা বা অনুসরণ করা। শুধুমাত্র না বুঝে পাঠ করলে তিলাওয়াত হয় না। তিলাওয়াত মানে পাঠের সময় পাঠকের মন পঠিত বিষয়ের পিছে চলবে, এরপর জীবনটাও তার পিছে চলবে। আল্লাহ বলেন- ‘যাদেরকে আমি কিতাব প্রদান করেছি তাঁরা তা হকভাবে তিলাওয়াত করে, তাঁরাই এই কিতাবের উপর ঈমান এনেছে।’ (সুরা বাকারা : ১২১)

এরপরও আমরা যদি বলি, কুরআন বুঝা কঠিন! তাহলে কি কুরআনকে অবজ্ঞা করা হবে না? বস্তুত কুরআন একটি অলৌকিক গ্রন্থ। এর অলৌকিকতার একটি দিক আমরা সকলেই দেখতে পাই। যেমন, একজন ৭ বা ৮ বছরের অনারব শিশুও তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুখস্থ করতে পারে। কুরআনের আরেকটি অলৌকিকত্ব হলো, এটি বুঝার সহজতা। আপনি যদি আরবি একটি শব্দ বা বাক্যও না বুঝেন, কিন্তু কুরআনের একটি অর্থানুবাদ নিয়ে আরবি আয়াত ও বাংলা অর্থ পাশাপাশি পড়ে যান, তবে আপনি দেখবেন, অলৌকিকভাবে অর্থটি হৃদয়ে গেঁথে যাচ্ছে। এভাবে দু’একটি খতম পড়ার পরে আপনি যখন সালাতে দাঁড়াবেন এবং ইমামের তিলাওয়াত শুনবেন তখন দেখবেন, আরবি শব্দের অর্থ না জানলেও আয়াতের অর্থটি আপনার হৃদয়ে জাগরুক হচ্ছে।

তাই আসুন, রমজান মাসকে কুরআন শিক্ষার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি। অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত শিখি এবং অর্থ বুঝার চেষ্টা করি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- ‘তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দান করে সেই সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।’ (সহীহ বুখারী ৪/১৯১৯) অন্য হাদীসে বলা হয়েছে- ‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি বর্ণ পাঠ করবে সে একটি পুণ্য বা নেকি অর্জন করবে। পুণ্য বা নেকিকে দশগুণ বৃদ্ধি করে প্রদান করা হবে।’ (তিরমিযী ৫/১৭৫, হাদীস- ২৯১০) আর মাহে রমজানে তো আরো ৭০ গুণ বেশি।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.