বুধবার , ২২ মে ২0১৯, Current Time : 1:13 am




মুখরা রমণী বশীকরণ

সাপ্তাহিক আজকাল : 13/05/2019

টুলু আশিকুজ্জামান : বিয়ের ইমিডিয়েট পর পর বউ খুবই লফালাফি করতো, হ্যান করেঙ্গা, ত্যান করেঙ্গা, এ রকম আর কী। মনে মনে ভাবলাম ওরে একটা বই কিনা দিতে হবে যেখানে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য কী, তা লেখা থাকে। ওই বই পড়ে যদি ৪০ শতাংশ ফলো করে, তাহলেই আমি খুশি।

গেলাম নীলক্ষেত বই মার্কেটে, খুঁজতে শুরু করলাম ‘স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য’ নামক বই। বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, সারা মার্কেট ঘুরে প্রতিটা দোকানে যে বইটা পেলাম, সেটা হলো ‘স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য’। একটা দোকানেও ‘স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য’ বই পেলাম না। একেবারে চলে আসার মুহূর্তে মার্কেটের চিপায় একটা ছোট্ট দোকানে সেলফের কোণায় দেখতে পেলাম ‘স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য’। চোখ চক চক করে ওঠলো, সাথে সাথে কিনতে চাইলাম। দোকানদার আমার ইন্টারেস্ট দেখে দাম বাড়িয়ে তিনশো টাকা চাইলো, আমার কাছে তখন স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্যের জন্য তিনশো টাকা কেন, লাগে তিন হাজার টাকাও খরচ কোনো ব্যাপার নয়, তবুও বউরে কর্তব্য শেখাতে হবে আর তা না হলে আমি শুধ্যা ‘ডিস্কো দিওয়ানি’ হয়ে যামু। বিয়ের পর কিছুদিন আমার মতো পুরুষদের এই সিনড্রোম চলে বলে আমার মনে হয়।

যা হোক তিনশো টাকা দিয়ে ‘স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য’ বই কিনা নিয়ে দিগি¦জয় করে রিকশায় করে বাসায় ফিরলাম এবং বউয়ের হাতে বইটা দিলাম। এমন একটা ভাব করলাম যে বই পড়া ভালো, বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে। বউ হাতে নিয়ে বইটা একটু নেড়েচেড়ে পড়া শুরু করলো। কিছুক্ষণ পরে ও আমাকে বললো : এটা কী বই আনছো? এটাতে তো দেখছি স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য লেখা।

ওর ওই কথা শুনে আমার চোখ চান্দিতে গিয়ে ঠেকলো। আমি অলমোস্ট চিল্লাতে গিয়ে সামলে নিয়ে বিজ্ঞের মতো বললাম : কই দেখি তো।
ও আমার দিকে বইটা দিলো। আমি দেখলাম বইটা, আসলেই তো তাই। হালার পো আমার… কীতে চুমুক দিয়ে পয়সাটা চুষে নিয়ে ‘স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য’ ধরিয়ে দিয়েছে, শুধু কভারটা ছিলো ‘স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য’ লেখা (ভুল করে না ইচ্ছা করে, তা জানি না)। ঠিক এক পত্রিকায় লেখা ওই লাইনটার মতো ‘পুলিশের গু খেয়ে সন্ত্রাসী নিহত’। প্রিন্টিং মিস্টেক থাকায় পরের দিন পত্রিকায় আবার ছাপা হলো ‘আমরা দুঃখিত গতকালকের পুলিশের গুলিতে সন্ত্রাসী মৃত্যুর নিউজে। আসলে ওটা হবে ‘পুলিশের গুলি খেয়ে’, আমাদের পাছায় চুল ছিলো।’

যা হোক, ভেতরে ভেতরে অর্থাৎ মনে মনে আমি ওই দোকানদারের বাপ-দাদার নাম ধরে ডাকাডাকি করছি, কিন্তু বাইরে বউকে এমন একটা ভাব করলাম যে, আমি খুঁজে নিয়ে এসেছি নিজেকে সচেতন করার জন্য যে কীভাবে আমাকে আরও যতœশীল হতে হবে ওর ব্যাপারে। ও আমার দিকে কী স্যাটিসফেকশন নিয়ে তাকালো আর ভাবলো ‘লোকটার টাকা না থাকতে পারে কিন্তু মনটা কী বিশাল, কী ভদ্রতা, কী শিষ্টাচার, কী সম্মান বউয়ের প্রতি’। রেস্পেক্টে ওর মাথানত হয়ে গেলো আমার এ ধরনের আচরণ দেখে, ওর চোখে পানি চলে এলো আর আমি তো মনে মনে ভাবছি ওই লঞ্চের গল্পের মতো ‘আরে রাখেন আপনার শাব্বাশ, কোন হালায় আমারে ধাক্কা দিয়া পানিতে ফালাইয়া দিসে, ঐটা আগে কন’। ঘটনাটা সংক্ষেপে বলি- একটা বাচ্চা লঞ্চ থেকে হঠাৎ পানিতে পড়ে যায়, সাথে সাথে এক ইয়াং ছেলে পানিতে লাফিয়ে পড়ে বাচ্চাটাকে নিয়ে লঞ্চে ওঠে আসে, তখন সবাই ওকে শাবাশ দিতে থাকে আর বলতে থাকে, ‘এ রকম ছেলেই তো দরকার আমাদের দেশের জন্য’। ফেসবুক থেকে



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.