মঙ্গলবার , ২0 অগাস্ট ২0১৯, Current Time : 2:11 am
  • হোম » আন্তর্জাতিক »
    ভারতের রাজনীতিতে লাগামহীন বৈরীতা
    ভোটে মোদি-মমতা বিরোধ তুঙ্গেলোকসভা নির্বাচন ২০১৯




ভারতের রাজনীতিতে লাগামহীন বৈরীতা
ভোটে মোদি-মমতা বিরোধ তুঙ্গেলোকসভা নির্বাচন ২০১৯

সাপ্তাহিক আজকাল : 11/05/2019

কৃষœকুমার দাস, কলকাতা থেকে
এবার লোকসভা নির্বাচনে মোদি-মমতা বিরোধ যেমন তুঙ্গে, তেমনি ভারতের রাজনীতিতেও লাগামহীন বৈরীতা লক্ষণীয়। ভোট মহাযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কী হবে তা চূড়ান্ত হবে ২৩ মে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে যাবে দেশের শাসনভার, কার কপালে আকাশ ভেঙে পড়বে আর কার মুখ আলোয় ভরে দেবে সাফল্যের জাদু- সবকিছুই অপেক্ষা করে আছে সাত দফার চলতি মহারণ শেষের সেই প্রথম বৃহস্পতিবারের জন্য!
আগামী ২৩ মে বৃহস্পতিবার। কিন্তু, সে তো এখনও প্রায় দু’সপ্তাহ মানে ১৩ দিন দূর! কিন্তু তার আগে এই মাঝের সময়টায় কী হতে পারে, তা নিয়ে কল্পনা-জল্পনার ডানা মেলে দিতে অসুবিধে কী!
এ ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে আর পাঁচটা ক্ষেত্রের মতো দেশের বাকি রাজ্যগুলোর চেয়ে এগিয়ে বাংলা সন্দেহ নেই। হবে নাই বা কেন? আজও পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে অন্যতম রাজনীতি সচেতন রাজ্য বলে, দেশ রাজনীতির অন্যতম পীঠস্থান বলে স্বীকৃত।
স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংখ্যার হিসাবে এ রাজ্যেই সর্বাধিক নির্বাচনী সভা করছেন- ১৯টি, গড়ে প্রতি দফায় আড়াইটিরও বেশি!
ফলে সবাই বুঝেছেন, এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জন্য জাতীয় রাজনীতিতে যেমন, তেমনি মোদিজির এই অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপের জন্য দেশের ভোটযুদ্ধের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান বিশেষ মাত্রা পাচ্ছে। তার ওপর মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বাঙালি হিসেবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে দেখার স্বপ্ন তো আছেই।
সব মিলিয়ে এবার দেশের ভোটের পাশাপাশি বাংলার ভোটও তাই জনতার আগ্রহ-কৌতূহলের কেন্দ্রে। আর সেই সূত্রেই ২৩-এর অপেক্ষায় না থেকে বাংলার জনমন জল্পনা-কল্পনার জমজমাট উৎসবে পুরোপুরি মজে গেছে। কী হতে পারে তার একটা পাকাপোক্ত হিসাব এখন আমবাঙালির মুখে মুখে। এবং সাত দফার মহাযুক্ত যত অন্তিম পর্বের দিকে এগোচ্ছে তত যেন রাজনৈতিক মহলের বড়-মেজ-ছোট কর্তা থেকে কর্মচারী মহাজনদের মধ্যেও এই কল্পনার উৎসবে শামিল হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
জনগণের অনেকেই মনে করছেন, সিপিএমের সমর্থক কর্মীদের একটা বড় অংশ এবার বিজেপির দিকে ভোট করবে। কারণ, তারা নাকি ভাবছেন সামনে মমতা থাকলে পার্টির পক্ষে অদূর ভবিষ্যতে ‘ঘুরে দাঁড়ানো’ মুশকিল। মমতার নজিরবিহীন ভাবমূর্তি, উন্নয়ন এবং সর্বোপরি তার অবিসংবাদী প্রভাব অতিক্রম করে বামদের পক্ষে রাজ্যের ক্ষমতা দখল কখনোই সহজ হবে না।
মমতা প্রতিপক্ষ হলেই নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর, নেতাই, কেশপুর, জঙ্গলমহল সব উঠে আসে, আসবে। উঠে আসবে ২১ জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত কলকাতা, পার্টির ডান্ডায় মাথা ফেটে মরণাপন্ন মমতার ছবি!
পাশাপাশি আজকের বিশ্ববাংলা পশ্চিমবঙ্গ ও তার সর্বাত্মক উন্নয়নের দৃষ্টান্তগুলোও মমতা ব্যানার্জির জয়ধ্বজা হয়ে রাজ্যবাসীর সামনে এসে দাঁড়াবে, দাঁড়াচ্ছে। রাজ্যের বাম শিবিরে এসব কঠিন বাধা অতিক্রম করার মতো জোরালো নেতৃত্ব থাকলেও তাদের অধিকাংশই আজ বয়সের ভারে অনেকটাই স্তিমিত।
বিমান বসু সূর্যকান্ত মিশ্রের মতো প্রবীণ নেতাকে তাই উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে ছুটে বেড়াতে হয়।
কিন্তু নন্দিনী মুখোপাধ্যায়, কনীনিকা ঘোষ, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় বা শতরূপের মতো সামান্য কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে তাদের জায়গা নেয়ার মতো যোগ্য উত্তরসূরির দেখা নেই আজও।
কবে দেখা মিলবে তাও অজানা। এ পরিস্থিতিতে ‘দক্ষিণপন্থী’ গেরুয়া শিবিরকে যদি ভবিষ্যতে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে খাড়া করা যায়, তবে একটা ভালো সুযোগ থাকবে।
দক্ষিণ-বামে লড়াই হলে মাইনাস পয়েন্টের বিচারটা হয়তো জনতার আদালতে পাল্টে যাবে। কারণ, বাংলা সাম্প্রদায়িক ব্যাপারে অনেক সহিষ্ণু ও ধর্মীয় সংহতিতে অনেক বেশি উৎসাহী।
সে ক্ষেত্রে পদ্মশিবিরের চেয়ে তখন তাদের কাছে বামরা মূল্য পাবে বেশি। তার ওপর ইউপি, ত্রিপুরার মতো বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে জনতার সহানুভূতি আদায়েও বাড়তি সুবিধা মিলতে পারে।
সেদিক বিচারেই নাকি এবার বামের ভোটে রামের ঝুলি ভরবে! এটা জনতার জল্পনা। একটু কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। অর্জুন সিং, লকেট চ্যাটার্জিদের মতো অনেকের ভাগ্যই নাকি এই জল্পনায় জড়িত! এখন সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে ২৩ মে। সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.