বুধবার , ২২ মে ২0১৯, Current Time : 2:15 am
  • হোম » আন্তর্জাতিক »
    টার্গেট পূরণ করতে যেনতেনভাবে টিকিট প্রদান
    ট্রাফিক পুলিশের আচরণে অতিষ্ঠ মানুষ




টার্গেট পূরণ করতে যেনতেনভাবে টিকিট প্রদান
ট্রাফিক পুলিশের আচরণে অতিষ্ঠ মানুষ

সাপ্তাহিক আজকাল : 11/05/2019

বিশেষ প্রতিনিধি
যেসব বিষয় নিউইয়র্কে কোনদিন গণমাধ্যমের সংবাদ হয়নি, এখন সেটিই হতে চলেছে। ট্রাফিক পুলিশ নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে হরহামেশাই সংবাদ দেখা যায়। কিন্তু এবার নিউইয়র্কেও ট্রাফিক পুলিশ সংবাদ শিরোনাম হতে যাচ্ছে। তাদের নানাবিধ কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নিজেদের কোটা পূরণের জন্য যেনতেনভাবে তারা গাড়িতে টিকিট দিচ্ছেন। ‘ইন্সপেকশন স্টিকার’ এর মেয়াদ থাকার পরও তা ‘ফেইক’ বলে টিকিট দিয়ে যাচ্ছেন। কিছু ট্রাফিক পুলিশ একটি গাড়িতে টিকিট দিয়ে তা আবার কিছুক্ষণ পর নিজেই সরিয়ে নিচ্ছেন। ‘ফায়ার হাইড্রেন’ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে গাড়ি রাখার পরও তারা টিকিট দিচ্ছেন। মিটার থেকে টিকিট আনার জন্য গেলে উৎপেতে থাকা ট্রাফিক পুলিশ সে ক্ষেত্রে টিকিট দিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনেকেই সংশ্লিষ্টর দফতরে অভিযোগ করছেন। গত সপ্তাহে এক আইনজীবি বাংলাদেশি এক ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ‘স্যু’ করেছেন। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় বেশ ক’জন ট্রাফিক পুলিশ ‘সাসপেন্ডের’ পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্ক ট্রাফিক বিভাগের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, দুই এক মাস ধরে আমরা কিছু অভিযোগ পাচ্ছি। আমরা কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছি। আমরা চাইবো ট্রাফিক পুলিশের দেয়া টিকিটগুলো যাতে আদালতে ‘নট-গিলটি’ না হয়। এছাড়া ভবিষ্যতে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে মনিটরিং আরো জোরদার হবে।
মঙ্গলবার দুপুর ২ টা। কানেকটিকাটের নাম্বার প্লেটের একটি গাড়ী থামে জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রীটের মান্নান হালাল মার্কেটের সামনে। ড্রাইভিং সিট থেকে নেমে ড্রাইভার টোকেনের জন্য যান পাশের মিটারে। এসময় আপনা বাজারের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন বাংলাদেশি ট্রাফিক। তিনি দূর থেকে বিষয়টি দেখছিলেন। ওই ড্রাইভার মিটার থেকে টোকেন নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রাস্তার অপরপ্রাপ্তে যান। সেখানে মিটার থেকে টোকেন নিয়ে ফিরে আসার আগেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক তার গাড়ীতে টিকিট দিয়ে দেন। আলী নামের ভদ্রলোক এসে যখন বললেন, ‘ভাই আমিতো টোকেনের জন্য গিয়েছি। গাড়ী রাখলাম দুই মিনিটও হয়নি। আর আপনিতো দেখেছেন মিটার নস্ট। কিন্তু এ কাজটি কেন করলেন?’ প্রতি উত্তরে ওই ট্রাফিক পুলিশ বলেন, ‘‘আমার কাজ আমি করেছি। আপনি টোকেনটি কপি করে ‘নট গিলটি’ করে পাঠিয়ে দিইষ্ফ। বলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এলমাহস্টে থাকেন বাংলাদেশি একজন কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আধ্যক্ষর ‘ মা. চৌ’। তিনি সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, ২৯ এপ্রিল আমার গাড়ী পার্ক করা ছিল এলমাহস্টে বাসার সামনে। সকালে ক্লিনিং ছিল। কিন্তু আমার গাড়ি ক্লিনিংয়ের পাশেও ছিল না। গিয়ে দেখি আমার গাড়িতে একটি টিকিটের খাম রয়েছে। ভেতরে কোন টিকিট দেখতে পায়নি। পরে খবর নিয়ে দেখলাম কিছু ট্রাফিক পুলিশ টিকিট দিয়ে তা আবার সরিয়ে নেন পরের জন যাতে টিকিট দিতে পারেন। আমি মনে করি আমার ক্ষেত্রে সে ধরনের ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ। তিনি টিকিটটি ঠিকই সরিয়ে ফেলেছেন কিন্তু খামটি রয়ে গেছে।
জ্যাকসন হাইটসের ৭৪ স্ট্রীটের বাম পাশের ‘ফায়ার হাইড্রেনের’ অতি দূরে গাড়ী রেখেছিলেন নাজিউর রহমান। তিনি সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, ‘ফায়ার হাইড্রেনের’ দুই পাশে হলুদ দাগ দেয়া আছে। দাগের অন্তত দুই ফুট দূরে আমি গাড়ি পার্ক করেছি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর গিয়ে দেখি আমার গাড়িতে ট্রাফিক পুলিশ টিকিট দিয়ে গেছেন। আমি অবশ্যই ছবি তুলে ‘নট গিলটি’ করে পাঠিয়েছিলাম। অনেক দিন কোন উত্তর না পাওয়ার পর জ্যামাইকার ট্রাফিক কোর্টে গিয়ে ছবি দেখানোর পর জাজ তা ‘ডিসমিস’ করে দিয়েছেন।
নাজিউর রহমান বলেন, বাঙালী এক ট্রাফিক আমাকে টিকিটটি দিয়েছিলেন। তার কারণে আমাকে কাজ ফেলে একদিন কোর্টে যেতে হয়েছে। সময় নস্ট হয়েছে। যা তিনি না করলেও পারতেন।
জ্যামাইকার হিলসাইডের ১৬৯ স্ট্রীটেও ঘটেছে একই ধরনের ঘটনা। বাংলাদেশি ক্যাবি ইফতেখার একদিন ফায়ার হাইড্রেনের অনেক দূরে গাড়ি রেখেছিলেন। কিন্তু এক ট্রাফিক পুলিশ (মহিলা) তার চোখের সামনেই টিকিট দিয়ে গেলেন। পরে তিনি ছবি তুলে ‘নট গিলটি’ করে পাঠানোর পর অবশ্যই মাফ পেয়ে যান।
ব্রুকলিনের চার্চ মেকডোনাল্ডের আতিকুর রহমান সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, গত কয়েক মাস ধরে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তারা মনগড়া টিকিট দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তা কোর্টে গিয়ে ‘ডিসমিস’ হয়ে যাচ্ছে।
জ্যাকসন হাইটসের এক বাংলাদেশি সাপ্তাহিক আজকালকে বলেন, মাথা নস্ট হয়ে যাচ্ছে। মেয়াদ থাকা ইন্সপেকশন স্টিকার থাকার পরও দুই সপ্তাহ আগে একই জায়গা পার্ক করা গাড়িতে একই ট্রাফিক পুলিশ পরপর দুই দিন ৬৫ ডলার করে দুটি টিকিট দিয়ে গেছেন। অথচ আমার ইন্সপেকশন স্টিকারের মেয়াদ রয়েছে ডিসেম্বর পর্যন্ত। আমি অবশ্যই ‘নট গিলটি’ করে অনলাইনে পাঠিয়েছেন। তবে কোন ফলাফল এখনও পায়নি।
তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি অন্যায়। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার। নিজেদের টিকিট টার্গেট পূরণ করতে গিয়ে যা ইচ্ছা তাই তারা করছেন। এমনকি একটি টিকিট দেয়ার পর একই ট্রাফিক পুলিশ গিয়ে সেটি আবার চেক করার নাম করে ফেলে দিয়ে যাচ্ছেন। পরের ট্রাফিক পুলিশ আবার এসে মুহুর্ত্বের মধ্যে টিকিট দিয়ে যাচ্ছেন। আমি মনে করি কিছু ট্রাফিক পুলিশ টিকিটের টার্গেট পূরণ করার জন্য সিন্ডিকেট করে এ ধরনের অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কতিপয় ট্রাফিক পুলিশের এ ধরনের অনৈতিক বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে। যারা এ ধরনের কাজ করেছেন তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তাদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি ও একজন পাকিস্তানি রয়েছেন বলে অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.