শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২0১৯, Current Time : 8:42 am
  • হোম » বিনোদন » পারভেজের লালসা থেকে এয়ারলাইন্সের কোন নারী রেহাই পাননি!




পারভেজের লালসা থেকে এয়ারলাইন্সের কোন নারী রেহাই পাননি!

সাপ্তাহিক আজকাল : 06/05/2019

জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মিলা ইসলাম। ২০১৭ সালের মে মাসে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছিলেন বৈমানিক পারভেজ সানজারিকে। পরে তার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। সম্প্রতি সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মিলা ইসলাম। বিচ্ছেদ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মিলা এবং পারভেজ একে অপরকে অভিযোগের তীর ছুঁড়েছেন।

শনিবার বিষয়টি নিয়ে ফের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন মিলা। পাঠকদের জন্য মিলার সেই স্ট্যাটাসের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।:-
একজন ব্যক্তি যখন নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভেবে সীমাহীন বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যখন তাকেই অনৈতিকভাবে আশকারা দিতে থাকে কিছু মহল, তখন নিশ্চয়ই বিবেকবান যে কেউ প্রতিবাদী হবেই। প্রতিটি সমাজেই একটি নির্দিষ্ট নিয়ম নীতি আছে। আধুনিকতা মানুষকে শুধু অগ্রসারমান হতেই শেখায় না, আধুনিকতা মানুষকে শিষ্ঠাচারী হতেও সাহায্য করে।

ইংরেজিতে ‘ফ্যামিলি ভেল্যুজ’ বলে একটা শব্দ আছে। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় পারিবারিক মূল্যবোধ। আমাদের সমাজে পারিবারিক মূল্যবোধ বিরাজমান বলেই আমরা একটি নির্দিষ্ট প্রথার ভেতর বসবাস করি। আর এ কারণেই সমাজ অজস্র মন্দ বিষয় থেকে মুক্ত থাকে।

প্রতিটি বিবাহিত দম্পতির ক্ষেত্রে একে-অপরের প্রতি বিশ্বস্ত হওয়া একান্তই আবশ্যিক। এটা না থাকলে পারিবারিক মূল্যবোধ ভেঙে পড়বে, ধ্বংস হয়ে যাবে সমাজ। আর এর ফলে আক্রান্ত হবে গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা। বিয়ে মানেই হচ্ছে একটি এমন অঙ্গীকার যা আজীবন স্বামী-স্ত্রী রক্ষা করেন যে কোনও কিছুর বিনিময়ে। আমাদের মতো পুরুষ শাসিত সমাজে স্বামী-স্ত্রী’র মাঝে দাম্পত্য বোঝা পড়া এবং সুখ বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুরুষ বা স্বামীর ভূমিকা সবচেয়ে বেশী।

কোনও কারণে যদি ওই স্বামীই হয়ে ওঠে দূরাচারী, সে যদি নিজের স্ত্রীর মর্যাদাকে তুচ্ছজ্ঞান করে ক্রমাগতভাবে প্রিয়তমা স্ত্রীকেই প্রবঞ্চিত করতে থাকে – যদি স্ত্রীর অজ্ঞাতে জড়াতে থাকে একের-পর-এক পরকীয়ায়, তাহলে ওই দম্পতির, বিশেষ করে স্ত্রীর মানসিক অবস্থাটা কেমন হয়, সেটা আপনারা সবাই জানেন এবং বোঝেন। আমাদের এই দেশে প্রতিনিয়ত স্বামীদের এ ধরনের অন্যায় আচরণের শিকার হচ্ছেন নারীরা। এসিডে ঝলসে দেয়া হচ্ছে- প্রবঞ্চিতা স্ত্রীদের–নারীদের। সভ্যতার এই সময়ে এসে এমন জঘন্য পরিস্থিতির কষ্ট শুধু ভুক্তভোগীরাই উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।

কিন্তু আমি হতবাক হয়ে লক্ষ্য করি, সানজারী বিয়ের পর থেকেই কেমন যেনো অচেনা আচরণ করতে থাকে। সে প্রায়ই বিভিন্ন লোকের সঙ্গে লুকিয়ে-লুকিয়ে ফোনে কথা বলতো। আমি জানতে চাইলে সে শুধু মারমুখীই হতো না বরং নিয়মিতভাবেই আমার ওপর চালাতো অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

বেসরকারি একটি বিমান সংস্থায় পাইলট হিসেবে কর্মরত পারভেজ নিয়মিতভাবেই এয়ারলাইন্সের নারী স্টাফ এমনকি বিমানবালাদের শয্যাসঙ্গিনী হতে বাধ্য করতো। কিংবা ওদের সঙ্গে প্রেমের ভান করে শয্যাসঙ্গিনী করতো, যা এখনও থেমে যায়নি। সানজারী’র নষ্ট লালসা থেকে এয়ারলাইন্সের কোনও নারী সদস্যই রেহাই পাননি। আমার কাছেই এ ধরনের অজস্র প্রমাণ আছে, যা প্রবঞ্চিত-প্রতারিতরাই বিভিন্ন সময়ে পাঠিয়েছেন।

এখানেই শেষ নয়। সানজারী মিডিয়ার অনেক অভিনেত্রী ও কন্ঠ শিল্পীদেরও মিথ্যা প্রেমের ফাঁদে ফেলে নষ্ট করেছে এবং এখনও করছে। আবার এমন কিছু বিতর্কিত অভিনেত্রীও আছে, যারা টাকা কিংবা অন্য কিছুর লোভে ইচ্ছে করেই সানজারী’র সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছে – দৈহিক মেলামেশাও করেছে এবং এখনও করছে। আমি জানি না, ওই সব অভিনেত্রীদের স্বামীরা ঠিক কোন পর্যায়ের নির্লজ্জ – নাকি উনারা অসহায় সেটাও জানিনা। তা না হলে, নিজের স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ার কথা এমনকি ওই পুরুষের শয্যাসঙ্গিনী হওয়ার ঘটনা জানার পরও ওরা কেনো নিশ্চুপ আছেন আমি বুঝি না। কখন-কখনো আমার এমনটাও সন্দেহ হয়, ওই সব স্বামী নামধারী কুলাঙ্গারগুলো হয়তো ওদের অভিনেত্রী স্ত্রীদের বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবেই ব্যবহার করছেন। হয়তো আমার অনুমান ভুল নয়।

সানজারী’র সব অপকর্ম, এমনকি দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ নানা কার্যকলাপ ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে সে আমার সম্পর্কে নানা বানোয়াট কথাবার্তা বলে মিডিয়াকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। সে বলে বেড়াচ্ছে আমি নাকি তাকে তার বাবা-মা-কে ত্যাগ করার সর্ত দিয়েছি। কি জঘন্য মিথ্যাচার! আমার কাছে প্রমাণ আছে সানজারী’র মায়ের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল এবং তিনি বহুবার আমায় বলেছেন উনার ছেলে নষ্ট হয়ে গেছে। কোনও পর্যায়ে গেলে একজন তার নিজের সন্তান সম্পর্কে এমন কথা বলতে বাধ্য হন। সেটা বিবেচনার ভার আপনাদের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি।

সানজারী আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে ক্রমাগত কুৎসা রটাচ্ছে এবং আমার পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা দেশের প্রচলিত আইনেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমি বিশ্বাস করি দেশের বিবেক সম্পন্ন সাংবাদিক বন্ধুরা এসব মিথ্যাচারে কান দেবেন না।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.