মঙ্গলবার , ২0 অগাস্ট ২0১৯, Current Time : 1:04 am




শুরুর আগেই রোজার বাজার চড়া

সাপ্তাহিক আজকাল : 28/04/2019

রোজা শুরু হতে বাকি এখনো অন্তত ১০ দিন। এরই মধ্যে রমজানে বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও একটি চক্র কারসাজি করে দাম বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর হাতিরপুল, রায়েরবাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষিবাজার ঘুরে দেখা যায়, অন্যতম প্রধান চাহিদা পণ্য চিনি, ছোলা, সয়াবিন, পেঁয়াজ ও রসুনের দর ঊর্ধ্বমুখী।

চিনির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৫ টাকা। কেজিপ্রতি দেশি পেঁয়াজ ৩০ টাকায়, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাত দিন আগেও ছিল ২৫ ও ২০ টাকা। চীনা আদা ও রসুনের দরও কেজিতে ১০ টাকার মতো বেড়েছে। চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০ টাকা দরে। কেজিপ্রতি চীনা আদা ১২০-১৩০ টাকা ও দেশি আদা ১৪০-১৫০ টাকা চাইছেন বিক্রেতারা। রায়ের বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রাসেল জানান এক সপ্তাহ আগে ছোলার দাম ছিল কেজিপ্রতি ৭০ টাকা, যা এখন হয়েছে ৭৫ টাকা। অ্যাংকর ডাল ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৯২ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকা, মসুর ডাল ৯০ টাকা থেকে ৯৫ টাকা এবং পাউডার দুধ হাফ লিটারের প্রতি প্যাকেটের ৩০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩১০ টাকা।

সরবরাহের ঘাটতি না থাকার পরেও দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে এই বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল কালাম বলেন, দেশের সব রাস্তার অবস্থা খারাপ, আগের চেয়ে পণ্য আনতে বেশি সময় লাগে এ জন্য দাম বাড়ছে। আর মোহাম্মদপুর কৃষিবাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন আলী বলেন, ‘আমাদের দেশের ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই নরমাল ধারণা আছে রমজানে সব পণ্যের দাম বাড়বে। এটা দাম বাড়ার একটা কারণ।’ তবে বাড়তি চাহিদা মেটাতে মিলগুলো সময়মতো চিনি দিতে পারছে না। এ কারণে চিনির দামে প্রভাব পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।

হাতিরপুল বাজারের নিয়মিত ক্রেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বের সম্ভবত আর কোনো দেশ খুঁজে পাবেন না যেখানে রমজান মাসে জিনিসের দাম বাড়ে। এটা কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব। সরকার-ব্যবসায়ী মিলে একটা দুষ্টচক্র দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় জড়িত। তারা পণ্যের মজুদ করে কৃত্রিম সংকট করে দাম বাড়াচ্ছে।’

তবে এক সপ্তাহ আগে যে সবজির বাজারে কড়া উত্তাপ দেখা দিয়েছিল, তা এখন অনেকটা কমে এসেছে। বাজারভেদে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে যে বেগুন কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা এখন ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় নেমে এসেছে। এ ছাড়া করলা ৮০ টাকা থেকে নেমে ৭০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা থেকে নেমে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা থেকে নেমে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা থেকে নেমে ৪০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা থেকে নেমে হয়েছে ৩০ টাকা।

এখন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ, ২ মে থেকে ইলিশ ধরা শুরু হবে। গত সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশের দাম ছিল দেড় হাজার টাকা। এখন তা নেমে এসেছে এক হাজার টাকায়। গত সপ্তাহে যে রুই মাছের কেজি ছিল ২৮০ টাকা, তা কমে হয়েছে ২২০ টাকা। পাঙ্গাসের দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমে হয়েছে ১৪০ টাকা। বড় বোয়ালের দাম ৬০০ টাকা থেকে নেমে হয়েছে ৫৫০ টাকা। এ ছাড়া সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে কমেছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কমেছে বলে জানিয়েছেন রায়েরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী কবির হোসেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর রোজায় মাছের সরবরাহ বাড়ে। ফলে ১০ রোজার পর এমনিতে বাজারে মাছের দাম থাকে না। এবারও এমন হওয়ার আশঙ্কা আছে।

এদিকে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই ৫৫০ টাকা রয়েছে। তবে কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। এক সপ্তাহ আগে যে ব্রয়লার মুরগি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬৫ টাকা, তা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। এ ছাড়া ডজনপ্রতি ডিম ১০৫ টাকা থেকে নেমে হয়েছে ৯০ টাকায়।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.