রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২0১৯, Current Time : 9:21 am
  • হোম » স্বাস্থ্য » বিনামূল্যে ফ্যাক্টর ইনজেকশন সরবরাহসহ ওষুধের দাম কমানোর আহ্বান




বিনামূল্যে ফ্যাক্টর ইনজেকশন সরবরাহসহ ওষুধের দাম কমানোর আহ্বান

সাপ্তাহিক আজকাল : 18/04/2019

হিমোফিলিয়াকে জাতীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বিনামূল্যে ফ্যাক্টর ইনজেকশন সরবরাহসহ হিমোফিলিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দাম কমানোর আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

বুধবার বিএসএমএমইউতে হিমোফিলিয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

দিবসটি পালন উপলেক্ষে হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বিএসএমএমইউ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশে রক্তরক্ষণজনিত রোগ হিমোফিলিয়া রোগীদের ভোগান্তি ও দুঃখ দুর্দশা লাঘব এবং চিকিৎসার সুবিধার্থে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো (ভারত, শ্রীলংকা, নেপাল) হিমোফিলিয়াকে জাতীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করে রোগীদের চিহ্নিত করে ন্যূনতম পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারিভাবে বিনামূল্যে ফ্যাক্টর ইনজেকশন সরবরাহসহ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক, বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ, হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. নূরুল ইসলাম, ডা. শফিকুল ইসলাম, ডা. হুমায়রা নাজনীন প্রমুখ।

এছাড়াও আলোচনাসভায় দুই শতাধিক হিমোফিলিয়া রোগী ও পরিবারের সদস্যরা, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা ও রক্তরোগ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “প্রচার-উপযুক্ত চিকিৎসার প্রথম পদক্ষেপ” দেশের প্রান্তিক ও দুগর্ম অঞ্চলে হিমোফিলিয়া রোগ সম্পর্কে প্রচার এবং রোগী শনাক্তকরণই হচ্ছে এই রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার প্রথম পদক্ষেপ। বিএসএমএমইউতে এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য রালি বের হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে প্রবন্ধ লিখন, চিত্রাঙ্কন এবং আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনাসভায় বলা হয়, ১৭ এপ্রিল বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস। এবারে প্রতিপাদ্য বিষয় প্রচার-উপযুক্ত চিকিৎসার প্রথম পদক্ষেপ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

১৯৮৯ সালে সর্বপ্রথম কানাডার একজন হিমোফিলিয়া রোগী মি. ফ্রাংক কেনবল হিমোফিলিয়া ফেডারেশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার জন্মদিনকে বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

বুধবার বিশ্বের ১১৮টি দেশে বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস পালিত হচ্ছে। এর একটিই উদ্দেশ্য দেশবাসী, রোগী ও তাদের অভিভাবকদের সচেতন করা এবং সরকারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবান ব্যক্তি সবাই যেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং তাদের সবার জন্য সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

আলোচনা সভায় আরও জানানো হয়, হিমোফিলিয়া একধরনের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত রোগ। যার কারণ হলো জন্মগতভাবে তাদের শরীরে রক্ত বন্ধ হওয়ার উপাদান ফ্যাক্টর এইট/নাইন এর ঘাটতি।

বর্তমান বিশ্বে এ রোগের একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে ঘাটতি ফ্যাক্টর পূরণ করা। নিয়মিত চিকিৎসা করে চললে রোগের জটিলতা কমিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। বাংলাদেশে ফ্যাক্টর ইনজেকশন অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় অধিকাংশ রোগী এই ইনজেকশন ক্রয় করে চিকিৎসা করতে পারেন না। ফলে রোগীরা ধীরে ধীরে পঙ্গু হয়ে যায়, সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়, কোন কোন ক্ষেত্রে অকালে মৃত্যুবরণ করে থাকে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই সরকারিভাবে হিমোফিলিয়া রোগীদের বিনামূল্যে ফ্যাক্টর ইনজেকশন সরবরাহ করা হয়।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.