বুধবার , ২২ মে ২0১৯, Current Time : 6:52 am




জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে হবে

সাপ্তাহিক আজকাল : 23/02/2019

মনজুর আহমদ
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাককে আমি চিনি না। সাংবাদিকতা জীবনে কখনও সুযোগ হয়নি তার মুখোমুখি হওয়ার। তবে নাম জানতাম। জামায়াতে ইসলামী নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী যে দলটি, তার নেতা। দলে তার শেষ পদটি ছিল কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। শেষ পদ বলছি এই জন্য যে তিনি সম্প্রতি সেখান থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুধু পদ থেকেই নয় তিনি জামায়াতে ইসলামী দলটির সাথেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।
বাংলাদেশের প্রচার মাধ্যম এখন এই খবরে সরগরম। সম্পর্ক ছিন্নের কারণ হিসাবে তিনি এতদিন পরে যা বললেন তা বেশ আলোড়ন তুলেছে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমা না চাওয়ার কারণেই নাকি তার এই পদত্যাগ। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দলের আমীর মকবুল আহমদের কাছে পাঠানো পদ্ত্যাগত্রে তিনি লিখেছেন, ‘একাত্তরে দলের ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত এবং ওই সময়ে জামায়াতের ভূমিকা এবং পাকিস্তানের প্রতি তাদের সমর্থনের কারণ উল্লেখ করে জাতির কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত’।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক ১৯৮৬ সাল থেকে জামায়াতের নেতৃত্বে সক্রিয়। দলটির উত্থানের সাথে যেমন পতনের সময়ও তেমনিভাবে দলটিকে আঁকড়ে থেকেছেন। তাকে আমরা প্রকাশ্য তৎপরতায় শেষ দেখেছি যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিচারের সময়। তিনি ছিলেন আসামী পক্ষের একজন কৌঁশুলি। মামলায় কাউকেই তিনি রক্ষা করতে পারেননি। সে সময় হঠাৎ করে তার সম্পর্কেও কিছু অভিযোগ ওঠে। তাকে গ্রেফতারের একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই অবস্থায় তিনি গোপনে দেশ ত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। তখন থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন। নিউইয়র্কেও এসেছিলেন বলে শোনা যায়। প্রবাস জীবনে তিনি তার দলীয় কাজকর্মে কতটা সক্রিয় ছিলেন সে খবর কোন গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে হয় না। তবে এতদিনে জামায়াতের ক্ষমা প্রার্থনার দাবী তুলে তিনি আলোচনায় এসেছেন।
কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা তো সভ্য সমাজের এক চিরন্তন ও প্রতিষ্ঠিত রীতি। তবে জামায়াতে ইসলামী যেমন এই রীতিকে অগ্রাহ্য করে ক্ষমা প্রার্থনা থেকে বরাবর বিরত থেকেছে, তেমনি বাংলাদেশের মানুষও তাদের কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা কখনও চায়নি। মানুষ তাদের বিচার চেয়েছে, শাস্তি চেয়েছে, তাদের ক্ষমা করতে চায়নি। বাংলার মানুষ তো জামায়াতে ইসলামী নামের দলটিকে কখনও স্বাধীন দেশের মাটিতে স্থান দিতে রাজি হয়নি। জামায়াতকে মেনে নেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাস যারা বাঙালির রক্তে হাত রঞ্জিত করেছে, বাঙালির জাতিস্বত্বাকে নিশ্চিহ্ন করার হীন উদ্দেশে পাকিস্তানীদের সাথে হাত মিলিয়েছে, অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে, তাদেরকে মেনে নেয়া মানে এদেশের মানুষের নিজেদের অস্তিত্বকে অবমাননা করা। তাদেরকে ক্ষমা করার কোন প্রশ্নই স্বাধীনতার এই আটচল্লিশ বছরে কেউ তোলেনি। তোলা হয়েছে তাদের বিচারের দাবী। গণহত্যার জন্য তাদের বিচার, বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য তাদের বিচার, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার জন্য তাদের বিচার, ধর্ষণ অগ্নিসংযোগ গ্রাম বংলার ঘরে ঘরে হাহাকার সৃষ্টির জন্য তাদের বিচার।
ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় কলঙ্কিত এই দলটি স্পস্টত মনেই করে না যে তারা কোন অন্যায় কাজ করেছে। কোন অপরাধবোধ তাদের মধ্য কাজ করে না। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মারপ্যাঁচে তারা যখন আবার দল গঠনের সুযোগ পেল, তখন প্রথমেই তারা স্পর্ধা দেখালো সেই কলঙ্কিত ‘জামায়াতে ইসলামী’ নামটিই দলের জন্য নির্ধারণ করে। নিঃসন্দেহে তাদের এই কার্যক্রম ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের গালে চপেটাঘাতের শামিল। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানীদের সাথে হাত মিলিয়ে তারা অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে। তখন থেকেই জামায়াত এ দেশের মানুষের শত্রু হিসাবে চিহ্নিত। স্বাধীনতার পর তারা প্রাণ বাঁচাতে উধাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আট বছর পর দল গোছাবার সুযোগ পেয়ে তারা সেই একই নাম নিয়ে রাজনীতিতে এসে জনগণের সামনে একটা তাচ্ছিল্যের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। শুধু দলের নামই নয় তাদের ‘সংগ্রাম’ নামের যে মুখপত্র নয় মাস ধরে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিষ ঝরিয়েছে, সেই পত্রিকা আবার তারা সেই একই নামে প্রকাশ করতে শুরু করে। মনে আছে এ সময় জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় ক্লাবের তদানিন্তন সভাপতি মরহুম এনায়েতুল্লাহ খান সেই একই জামায়াতে ইসলামী নামে দল গঠন এবং সংগ্রাম নামে পত্রিকা প্রকাশের বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী আবার স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল বিপুলভাবে। কোন আত্মগ্লানি তাদের মধ্যে ছিল না। বরঞ্চ দিনে দিনে তারা জোর গলায় বলতে শুরু করে একাত্তরে তাদের ভূমিকা যথার্থ ছিল। বলতে থাকে একাত্তরে তারা কোন অন্যায় করেনি। অস্ত্র হাতে তাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকে ব্যাখ্যা দিয়ে তারা বলে, তারা নাকি শুধু ব্রিজ সেতু কালভার্ট রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছে। কোন হত্যা, ধ্বংস, অগ্নিসংযোগের সাথে তারা জড়িত ছিল না। সারা দেশের মানুষ যা দেখেছে, সারা বিশ্বের মানুষ যা জেনেছে ধর্মের নামে রাজনীতি করা এই সব ‘পরহেজগার’ মানুষেরা অবলীলায় সেগুলি সম্পর্কে অসত্য বয়্না দিয়ে গেছেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। আর বাংলার মানুষ জামায়াতে ইসলামীর বিচার চেয়েছে। সেই নব্বইয়ের দশকে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণ আদালত বসিয়ে জামায়াত নেতাদের প্রতীকী বিচার করা হয়েছিল। সেখানে কেউ জামায়াতের ক্ষমা প্রার্থনার কথা বলেনি। এতদিনে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বাস্তবিকভাবেই যুদ্ধাপরাধী বিচারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের মানুষ যেমনটি চেয়েছিল তাই বাস্তবায়িত হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের দন্ডিত করা হয়েছে, সে দন্ড কার্যকর করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের সাথে সাথে দলটি বলা যায় স্থবির হয়ে গেছে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজেই বলেছেন, জামায়াত এখন একটা মৃত দল। ২০১১ সাল থেকে জামায়াতের কার্যক্রম বন্ধ। তাদের ৬৫টি জেলা সদরের অফিস এমন কি ঢাকা শহরেরও অনেকগুলি অফিস বন্ধ। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে দেয়া হয়েছে, তাদের কোন নির্বাচনী প্রতীক নেই। এই অবস্থায় তিনি দলের আমূল পরিবর্তন এবং জনবিচ্ছিন্নতা দূর করার জন্য তাদের একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
জামায়াতের ক্ষমা প্রার্থনা বাংলাদেশের মানুষের দাবী হিসাবে কখনও উত্থাপিত না হলেও রাজনীতি এবং কূটনীতিতে ক্ষমা প্রার্থনা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ববহ। কৃত দুষ্কর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা অপরাধ স্বীকার করে নেয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি রীতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে এবং যুদ্ধকালে কোরিয়া নিজেদের দখলে নিয়ে জাপানী সৈন্যরা সেখানকার নারীদের ওপর যে ব্যাপক ধর্ষণযজ্ঞ চালিয়েছিল সেই অপরাধ স্বীকার করে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পরে জাপান এখন দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। বৃটিশ শাসনাধীন থাকার সময় বৃটিশ শাসকরা কেনিয়ায় স্বাধীনতাকামী জনগণের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিল তার জন্য বৃটেন এই ২০১৩ সালে কেনিয়াবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। অপরাধ স্বীকার করে এ ধরনের ক্ষমা প্রার্থনার নজির আরো রয়েছে। চিলিতে সামরিক একনায়ক পিনোশের নৃশংসতার দায় স্বীকার করে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিসিও আইলউইন ১৯৯১ সালে নিজ দেশের জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। সার্বিক অর্থে ক্ষমা প্রার্থনা আজকের সভ্য বিশ্বে অপরাধ স্বীকারের এবং সৌজন্য প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে স্বীকৃত।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর কাছে এতদিনে এই সৌজন্যটুকু দাবী করেছেন। দল হিসাবে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর অস্তিত্ব সাধারণ মানুষ মানতে না চাইলেও ব্যারিস্টার রাজ্জাকের এই দাবী বিভিন্ন মহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জামায়াত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলে আওয়ামী লীগ বিষয়টি বিবেচনায় নেবে। ঢাকার একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেছেন, যারা তাদের কৃত অপরাধের কথা কখনও স্বীকার করেনি তাদের যদি এখন ক্ষমা প্রার্থনার মতো সুবুদ্ধি হয়, তারা যদি মুক্তিযুদ্ধকালে তাদের দুষ্কর্মের কথা স্বীকার করে নেয় তবে তাকে স্বাগত জানান উচিৎ। ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে তারা এই সত্য স্বীকার করে নেবে যে, একাত্তরে ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধের সাথে তারা সম্পৃক্ত ছিল।
কিন্তু ব্যারিস্টার রাজ্জাকের দাবী নিয়ে বাংলাদেশে জামায়াতের হাইকমান্ড কি ভাবছে? এক সপ্তাহ প্রায় পার হয়ে গেল তাদের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শুধু তার পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক জামায়াত থেকে পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল ডাঃ শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেছেন, তার পদত্যাগে আমরা ব্যথিত ও মর্মাহত। পদত্যাগ করা যে কোন সদস্যের স্বীকৃত অধিকার।
ক্ষমা প্রার্থনার প্রস্তাব জামায়াতে ইসলামী গ্রহণ করবে কিনা ব্যারিস্টার রাজ্জাক সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন। বিবিসি’র সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সংখ্যগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন প্রয়োজন হয়। তিনি ইতোপূর্বে দলের সংস্কার সাধনের লক্ষ্যে যেসব প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনের অভাবে সেগুলি নাকচ হয়ে গেছে।
রাজ্জাক সাহেবের বক্তব্যে প্রতীয়মান হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই তাদের সেই পুরানো অর্বাচীন ধ্যান-ধারণা আঁকড়ে রয়েছেন। অর্থাৎ তারা বিশ্বাস করেন একাত্তরে তারা ঠিক কাজটিই করেছেন। মানুষের নিন্দা, ক্ষোভ, ঘৃণা তাদের গায়ে লাগে না। কোটি কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে এসে তাদের ফাঁসি দাবী করলেও তাদের চৈত্যনোদয় হয় না। পার্টি ধ্বংসের প্রান্তে, রাজ্জাক সাহেবের ভাষায় ‘মৃত’, তবু জামায়াত নেতারা দলের সেই লাশই পাহারা দেবেন। তারা বলবেন না, একাত্তরে তারা অপরাধ করেছেন। বলবেন না, তাদের রাজাকার বাহিনী, আল-বদর, আল শামস’রা ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চালিয়েছে। যে স্বাধীন বাংলাদেশে আজ তারা মুক্ত জীবন যাপন করছেন সেই বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে যে তারা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করেছিলেন, সেই সত্য স্বীকার থেকে তারা বিরত রইবেন।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক কি উদ্দেশ্যে কোন চিন্তা-ভাবনা থেকে জামায়াতকে একাত্তরের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইতে বলেছেন সে বিবেচনায় না গিয়ে তার প্রস্তাবটিকে আমি স্বাগত জানাতে চাই। হ্যাঁ, জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমা চাইতে হবে। বলতে চাই, ক্ষমা চাও জামায়াত। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘বল ক্ষমা কর, সেই হোক সভ্যতার শেষ পূণ্যবানী’।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: [email protected]
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.